Madhyamik suggestion 2022 | Madhyamik 2022 suggestion | Madhyamik Bangla suggestion 2022 | Madhyamik Bengali 2022 জ্ঞানচক্ষু Question & Answer

Madhyamik Suggestion 2022 Madhyamik Bengali 2022 জ্ঞানচক্ষু Question & Answer আমরা আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছি 2022 সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার সাজেশন। ওয়েস্ট বেঙ্গল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (WBBSE) সাজেশন 2022 . Madhyamik Suggestion 2022 আমরা আপনাদের জন্য 10 ক্লাসের 2022 সমস্ত সাবজেক্টে সাজেশন নিয়ে এসেছি যেগুলো 100% কমন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। অবশ্যই আপনারা দেখুন মাধ্যমিক সাজেশন 2022 লাস্ট মিনিট এগুলো পড়ে গেলি আপনারা কমন পেয়ে যাবেন। Madhyamik Suggestion 2022

We have brought for you the 2022 Secondary Examination Suggestions. West Bengal Board of Secondary Education (WBBSE) Suggestion 2022. We have come up with suggestions for you in all subjects of 10 class 2022 which are 100% likely to be common. Of course you see the secondary suggestion 2022 last minute, after reading these, you will get common. Madhyamik Bengali 2022 জ্ঞানচক্ষু Question & Answer . Madhyamik Suggestion 2022

Board Name West Bengal Board of Secondary Education (WBBSE)
Exam Name Madhyamik 
Subject Bengali (1st Language)
Exam Date March 7, 2022
Website Freshsr.com

First of all we will know when the secondary examination is starting, and when there are some examinations. In a word, the routine of secondary 2022. Madhyamik Suggestion 2022

Madhyamik 2022 Routine
Exam Dates (11:45 Am to 3 PM) Day Subjects
March 7, 2022 Monday Bengali  (First Language)
March 8, 2022 Tuesday English (Second Language)
March 9, 2022 Wednesday Geography
March 11, 2022 Friday History
March 12, 2022 Saturday Life Science
March 14, 2022 Monday Mathematics
March 15, 2022 Tuesday Physical Science
March 16, 2022 Wednesday Optional Elective Subjects

Madhyamik 2022 Bengali Suggestion

জ্ঞানচক্ষু (গল্প)
আশাপূর্ণা দেবী
Madhyamik Bengali Question and Answer 2022 Madhyamik Suggestion 2022

  1. তপনের হাত আছে — কথাটির অর্থ হলো—
    (A) হস্তক্ষেপ
    (B) ভাষার দখল
    (C) মারামারি
    (D) জবরদস্তি
    Ans: B. ভাষার দখল
  2. “ যেন নেশায় পেয়েছে ” –যে নেশার কথা বলা হয়েছে-
    (A) গল্প ছাপানোর নেশা
    (B) মেসোর সমকক্ষ হওয়ার নেশা
    (C) গল্প লেখার নেশা
    (D) বাড়িতে সম্মান বাড়ানোর নেশা
    Ans: C. গল্প লেখার নেশা
  3. মামার বাড়িতে থেকে তপন প্রথম যে গল্পটি লিখেছিল— Madhyamik Suggestion 2022
    (A) দুপুরবেলা
    (B) বিকেলবেলা
    (C) সকালবেলা
    (D) রাত্রিবেলা
    Ans: A. দুপুরবেলা
  4. “ গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল তপনের ” -এর কারণ হলো—
    (A) অজানা আতঙ্ক
    (B) স্বরচিত গল্প পাঠের অনুভূতি
    (C) ভৌতিক গল্প পাঠের প্রতিশ্রুতি
    (D) নতুন মেসোর ব্যবহার
    Ans: B. স্বরচিত গল্প পাঠের অনুভূতি
  5. ঠাট্টা – তামাশার মধ্যে তপন যেক’টি গল্প লিখেছে-
    (A) একটি
    (B) তিনটি – চারটি
    (C) দু’টি – তিনটি
    (D) চার – পাঁচটি
    Ans: C. দু’টি – তিনটি
  6. “আমাদের থাকলে আমরাও চেষ্টা করে দেখতাম ” —উক্তিটির বক্তা—
    (A) ছোটোমাসি
    (B) মেজোকাকু
    (C) তপনের বন্ধুরা
    (D) মেসো
    Ans: B. মেজোকাকু
  7. “ কই পড় , লজ্জা কী ? পড় সবাই শুনি । ” কথাটি বলেছিলেন তপনের
    (A) বাবা
    (B) কাকা
    (C) মা
    (D) ছোটোমাসি
    Ans: C. মা
  8. ছোটোমাসি আত্মপ্রসাদের প্রসন্নতা নিয়ে বসে—
    (A) চা খায়
    (B) ডিমভাজা খায়
    (C) ডিমভাজা আর কফি খায়
    (D) ডিমভাজা আর চা খায়
    Ans: D. ডিমভাজা আর চা খায়
  9. তপন অবশ্য মাসির এই হইচইতে মনে মনে হয়—
    (A) আনন্দিত
    (B) উল্লসিত
    (C) পুলকিত
    (D) আনন্দি
    Ans: C. পুলকিত
  10. “ শুধু এইটাই জানা ছিল না” – অজানা বিষয়টি হলো – Madhyamik Suggestion 2022
    (A) তার গল্প ছাপা হবে
    (B) মেসো একজন লেখক
    (C) মানুষই গল্প লেখে
    (D) মেসো একজন অধ্যাপক
    Ans: B. মেসো একজন লেখক

অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর Madhyamik Suggestion 2022

“ এ বিষয়ে সন্দেহ ছিল তপনের ” —কোন বিষয়ে তপনের সন্দেহ ছিল ?
Ans: একজন লেখকের আচরণও যে আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতোই হয়ে থাকে সেই বিষয়ে তপনের সন্দেহ ছিল ।

” বিকেলে চায়ের টেবিলে ওঠে কথাটা ” —চায়ের টেবিলে কোন কথা ওঠে?
Ans: তপনের লেখা গল্পটি তার নতুন মেসোমশাই সন্ধ্যাতারা পত্রিকায় ছাপিয়ে দেবেন — এই কথাই চায়ের টেবিলে ওঠে ।

“ গল্প ছাপা হলে যে ভয়ংকর আহ্লাদটা হবার কথা সে আহ্লাদ খুঁজে পায় না । ” উদ্দিষ্ট ব্যক্তির আহ্লাদিত হতে না পারার কারণ কী ?
Ans: গল্পটি ছাপানো নিয়ে তপনের থেকে তার নতুন মেসোর মহত্ত্বের কথাই বেশি করে প্রচারিত হওয়ায় তপনের গল্প ছাপার আহ্লাদটা হারিয়ে যায় ।

তপনের লেখা গল্প পড়ে ছোটোমাসি কী বলেছিল ?
Ans: ছোটোমাসি বলে , “ ও মা এ তো বেশ লিখেছিসরে ? কোনোখান থেকে টুকলিফাই করিসনি তো ? ”

” তপন অবশ্য মাসির এই হইচইতে মনে মনে পুলকিত হয় । ” তপনের এই পুলকের কারণ কী ?
Ans: কারণ তপন ভাবে তার লেখার প্রকৃত মূল্য বুঝলে একমাত্র নতুন মেসোই বুঝবে । Madhyamik Suggestion 2022

“ এমন সময় ঘটল সেই ঘটনা ” —কোন ঘটনার কথা বলা হয়েছে ?
Ans: ছোটোমাসি আর মেসোমশাই যেদিন সন্ধ্যাতারা ‘ পত্রিকার একটি সংখ্যা নিয়ে তপনদের বাড়িতে বেড়াতে আসেন , সেই ঘটনার কথা বলা হয়েছে ।

” বুকের রক্ত ছলকে ওঠে তপনের । ” কেন তপনের বুকের রক্ত ছলকে ওঠে ?
Ans: তপনদের বাড়িতে বেড়াতে আসা ছোটোমাসি আর মেসোমশাই – এর হাতে থাকা ‘ সন্ধ্যাতারা ‘ পত্রিকার একটি সংখ্যা দেখে তপনের বুকের রক্ত ছলকে ওঠে । কারণ তপন ভাবে হয়তো তার অপেক্ষার অবসান এবার ঘটতে চলেছে নিজের লেখা গল্প ছাপার মধ্য দিয়ে ।

“ পৃথিবীতে এমন অলৌকিক ঘটনাও ঘটে ” – কোন ঘটনাকে অলৌকিক বলা হয়েছে ?
Ans: তপনের লেখা গল্পটি ছাপার অক্ষরে হাজার হাজার ছেলের হাতে ঘুরবে , এই ঘটনাকেই অলৌকিক ঘটনা বলা হয়েছে । Madhyamik Suggestion 2022

“ তা ঘটেছে , সত্যিই ঘটেছে । ” কী ঘটেছে ?
Ans: তপনের লেখা গল্পটি সন্ধ্যাতারা পত্রিকায় ছাপা হয়েছে এই ঘটনাই ঘটেছে ।

“ সূচিপত্রেও নাম রয়েছে ” সেখানে কী লেখা ছিল ?
Ans: আশাপূর্ণা দেবীর ‘ জ্ঞানচক্ষু ‘ গল্পে ‘ সন্ধ্যাতারা ‘ পত্রিকার সূচিপত্রে লেখা ছিল — ‘ প্রথম দিন ‘ ( গল্প ) শ্রী তপন কুমার রায় ।

“ ক্রমশ ও কথাটাও ছড়িয়ে পড়ে । ” কোন কথাটা ?
Ans: তপনের লেখা গল্পটি কিছুটা ‘ কারেকশান ‘ করে মেসোমশাই সন্ধ্যাতারা পত্রিকায় ছাপিয়েছেন – এই কথাটিই সারা বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে ।

“ আর কখনো শুনতে না হয় – ” কাকে , কী শুনতে না হয় ?
Ans: তপনের যেন আর কখনো শুনতে না হয় , “ অমুক তপনের লেখা ছাপিয়ে দিয়েছে ।”

” তপন আর পড়তে পারে না । ” কেন তপন আর পড়তে পারে না ?
Ans: নিজের লেখা ছাপানো গল্পটি পড়তে গিয়ে যখন তপন দেখে গল্পটিকে মেসো আগাগোড়াই কারেকশান করে নিজের পাকা হাতের কলমে নতুন করে লিখেছেন তখন তপন আর পড়তে পারে না ।

ব্যাখ্যাভিত্তিক সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর | Madhyamik Bengali Question and Answer 2022

” তপন যেন কোথায় হারিয়ে যায় এইসব কথার মধ্যে । ” ‘ এইসব কথা ‘ বলতে কী বোঝানো হয়েছে ? তপনের হারিয়ে যাওয়ার কারণ কী ?
Ans: তপনের লেখা গল্পটি সন্ধ্যাতারা ‘ পত্রিকায় প্রকাশিত হলেও মেসোর কারেকশানের কথাটিই ছড়িয়ে পড়ে সারা বাড়িতে । এতে তপনের বাবা ও মেজোকাকু মেসোমশাইকেই তপনের থেকে বেশি গুরুত্ব দেন । মেজোকাকু বলেন— “ তা ওরকম একটি লেখক মেসো থাকা মন্দ নয় । আমাদের থাকলে আমরাও চেষ্টা করে দেখতাম । ” আর সেইসঙ্গে বলা হয় , নতুন মেসো না থাকলে তপনের লেখা ‘ সন্ধ্যাতারা ‘ – র সম্পাদক হয়তো আঙুল দিয়েও ছুঁতো না । এইসব কথাই তপনের লেখা সম্পর্কে বলা হয় ।
গল্প ছাপা হলে তপনের যে আনন্দটা হবার কথা সেটা অদৃশ্য হওয়াতেই তপন হারিয়ে যায় ।

“ সারা বাড়িতে শোরগোল পড়ে যায় ” – শোরগোল কথার অর্থ কী ? কোন ঘটনায় এই ‘ শোরগোল পড়ে যায় ?
Ans: শোরগোল কথাটির অর্থ ‘ হইচই ‘ । তপনের লেখা গল্পটি প্রতিশ্রুতি মতো তার বিষণ্ণ ছোটোমেসো পত্রিকায় ছাপিয়ে তপনদের বাড়িতে নিয়ে আসেন । তার লেখা এই প্রথম ছাপার অক্ষরে প্রকাশিত হলে তপন অনাবিল উত্তেজনায় ফুটতে থাকে । আর এই খবর সারা বাড়িতে ছড়িয়ে পড়লে সকলের মধ্যে শোরগোল পড়ে যায় এবং তপনের সৃষ্টিকে কেন্দ্র করে সকলে আলোচনায় মুখর হয়ে ওঠে ।

“ তার চেয়ে দুঃখের কিছু নেই , তার থেকে অপমানের । ” কার সম্পর্কে এ মন্তব্য ? ‘ তার চেয়ে ‘ বলতে কী বোঝানো হয়েছে ?
Ans: ‘ জ্ঞানচক্ষু ‘ গল্পের অন্যতম চরিত্র তপন সম্পর্কে উদ্ধৃত মন্তব্যটি করা হয়েছে । মা যখন তাকে গল্পটি পড়তে বলে তখন তপন গল্পটি পড়তে গিয়ে দেখে তার প্রতিটি লাইনই তো নতুন আনকোরা যা তপনের কাছে অপরিচিত । সংশোধনের নাম করে ছোটোমেসো সম্পূর্ণ গল্পটিই নতুন করে লিখে দিয়েছেন নিজের পাকা হাতের কলমে । সেই গল্পের মধ্যে তপনের লেখার কোনো ছোঁয়াই না থাকায় নিজের লেখা পড়তে বসে অন্যের লেখা পড়ার থেকে দুঃখের কিছু আছে বলে তপনের মনে হয় না । ‘ তার চেয়ে ‘ কথাটির মধ্যে দিয়ে এভাবেই দুঃখ ও অপমানের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে ।

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর | Madhyamik Suggestion 2022

” সত্যি তপনের জীবনের সবচেয়ে সুখের দিনটি এলো আজ ” –উদ্ধৃতাংশটি কোথা থেকে নেওয়া হয়েছে ? তপনের জীবনের সবচেয়ে সুখের দিনটি কী ছিল ? বিবৃত করো ।

অথবা ,

” পৃথিবীতে এমন অলৌকিক ঘটনাও ঘটে ” —উদ্ধৃতাংশটি কোথা থেকে নেওয়া হয়েছে ? কোন ঘটনাকে অলৌকিক বলা হয়েছে ? Madhyamik Suggestion 2022
Ans: উৎস : সাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবী রচিত ‘ জানচক্ষু ‘ শীর্ষক ছোটোগল্প থেকে উদ্ধৃতাংশটি গৃহীত হয়েছে ।

গল্প ছাপানোর খবর না পাওয়ায় আশাহত অবস্থা: তপনের লেখা গল্পটি তার নতুন মেসোমশাই নিয়ে গিয়েছিলেন । তপনকে এবং ছোটোমাসিকে তিনি বলেছিলেন গল্পটি ‘ সন্ধ্যাতারা ‘ পত্রিকার সম্পাদককে বলে ছাপিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেবেন । কিন্তু বেশ কিছুদিন চলে গেলেও সেই ছাপানো প্রসঙ্গে কোনো খবর তপনের কাছে না পৌঁছনোয় সে আশাহত হয়ে দিন কাটাতে থাকে । Madhyamik Suggestion 2022

তপনের জীবনের সুখের দিন বা অলৌকিক ঘটনা: ছোটোমেসো তপনের গল্প নিয়ে যাওয়ার বেশ কিছুদিন পরে তার জীবনে হঠাৎ সুখের দিন এসে উপস্থিত হয় । বিষণ্ণ মনে বসে থাকার সময়— “ ছোটোমাসি আর মেসো একদিনে বেড়াতে এল , হাতে এক সন্ধ্যাতারা।”
সন্ধ্যাতারা পত্রিকার ওপর চোখ পড়ে তপনের বুকের রক্ত ছলকে ওঠে । তাহলে এতদিন পরে হয়তো সত্যিই তপনের জীবনে সুখের দিনটি এসে উপস্থিত হয়েছে বলে সে মনে মনে ভাবতে থাকে । সত্যিই কি তপনের লেখা গল্প ছাপানো হরফে হাজার হাজার ছেলে – মেয়ের হাতে ঘুরবে ? একথা ভেবে তপন পুলকিত হয় । তার মনে হয় , এ যেন পৃথিবীতে ঘটে যাওয়া অলৌকিক ঘটনা । পত্রিকার সূচিপত্রে জ্বলজ্বল করে লেখা রয়েছে— “ প্রথম দিন ( গল্প ) শ্রী তপন কুমার রায় । ” সারা বাড়িতে শোরগোল পড়ে যায় এবং তপনের লেখা গল্পের পত্রিকাটি একহাত থেকে অন্যহাতে আনন্দের সাথে ঘুরতে থাকে । Madhyamik Suggestion 2022

‘জ্ঞানচক্ষু’ গল্পে তপনের জীবনের সবচেয়ে সুখের দিনটি কীভাবে দুঃখের দিনে পরিণত হলো তা নিজের ভাষায় লেখো ।
Ans: বাংলা সাহিত্যের অন্যতম লেখিকা তথা ঔপন্যাসিক আশাপূর্ণা দেবী রচিত ‘ জ্ঞানচক্ষু ‘ শীর্ষক ছোটোগল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র তপনের সুখের দিনটি দুঃখের দিনে পরিণত হয়েছিল ।

তপনের জীবনের সুখের দিন : মামার বাড়িতে গিয়ে লেখা তপনের একটি গল্প ছোটোমেসো সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিলেন । তিনি তপনকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন , তার লেখা গল্পটি ‘ সন্ধ্যাতারা ‘ পত্রিকার সম্পাদককে বলে ছাপানোর ব্যবস্থা করে দেবেন। এরপর বেশ কিছুদিন কোনো খবর না আসায় তপন অনেকটা আশাহত হয়ে গেলে হঠাৎ তপনদের বাড়িতে– “ ছোটোমাসি আর মেসো একদিন বেড়াতে এল , হাতে এক সংখ্যা সন্ধ্যাতার। ” সেই পত্রিকা দেখে এবং তাতে তপন নিজের লেখা গল্প ছাপার কথা মনে করে পুলকিত হয়ে ওঠে । এটাই ছিল তার সবচেয়ে সুখের দিন । Madhyamik Suggestion 2022

সুখের দিন দুঃখের দিনে পরিণত হওয়া: তবে সেই সুখের দিনের শেষ পরিণতি তপনের কাছে হয়ে উঠেছিল অত্যন্ত বেদনার্ত । পত্রিকায় প্রকাশিত গল্পটি একদিকে যেমন কারেকশান করতে হয়েছে অন্যদিকে মেসোর সুপারিশেই তা ছাপা হয়েছে — বাড়িশুদ্ধ এরকম আলোচনা ছড়িয়ে পড়তে থাকে । এতে তপন মনে মনে খুব কষ্ট পায় । এরপর মায়ের আদেশে গল্পটি পাঠ করতে গিয়ে তপন দেখে— “ এর প্রত্যেকটি লাইন তো নতুন আনকোরা , তপনের অপরিচিত । ” অর্থাৎ সম্পূর্ণ গল্পটি লেখক মেসো লিখে দিয়েছেন তাঁর পাকা হাতের কলমে । একমাত্র শিরোনাম ছাড়া তাতে তপনের কোনো অস্তিত্বই নেই । কিছুক্ষণ গড়গড়িয়ে পড়ার পর তপন বইটা ফেলে রেখে চলে যায় । আসলে দুঃখে – কষ্টে তপন ছাদে উঠে গিয়ে কেঁদে ফেলে সংকল্প করে— “ যদি কখনো লেখা ছাপতে দেয় তো , তপন নিজে গিয়ে দেবে । নিজের কাঁচা লেখা ছাপা হয় হোক , না হয় না হোক। ” এভাবেই তপনের সুখের মুহূর্তটি শেষে দুঃখের মুহূর্তে পরিণত হয়েছিল । Madhyamik Suggestion 2022

‘ জ্ঞানচক্ষু ‘ গল্পে তপনের চরিত্রটি আলোচনা করো ।
Ans: বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান লেখিকা ও কথাসাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবীর ‘ জ্ঞানচক্ষু ‘ গল্পে তপন একটি অল্পবয়েসি ছেলে । সদ্যবিবাহিতা ছোটোমাসির থেকে সে প্রায় আট বছরের ছোটো । তবে বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্যের জন্য তপন আর পাঁচটা ছেলের থেকে আলাদা ।

সাহিত্যপ্রীতি : তপন ছেলেবেলা থেকে অনেক গল্প শুনেছে আর এখন গাদা গাদা গল্প পড়ে । অর্থাৎ সাহিত্যের প্রতি তার ভালোবাসা বরাবরই রয়েছে।
শিশুসুলভ কল্পনা লেখকেরা অসাধারণ মানুষ এরকম ধারণা ছিল তপনের । কিন্তু নতুন মেসো মশাইকে দেখে তপনের সে ধারণা পাল্টে যায় । তপন দেখে ছোটোমেসোমশাই লেখক হলেও – “…ওদের মতোই দাড়ি কামান , সিগারেট খান , খেতে বসেই – আরে ব্যস, এত কখন খাওয়া যায়? বলে অর্ধেক তুলিয়ে দেন , চানের সময় চান করেন ঘুমের সময় ঘুমোন । ” এমনকী খবরের কাগজ পড়েন ও সিনেমাও দেখেন । এসব দেখে তপনের মনে হয় , লেখকরাও সাধারণ মানুষ । Madhyamik Suggestion 2022

আত্মবিশ্বাসী: গল্প পড়া ও শোনার প্রতি তপনের যথেষ্ট আগ্রহ ছিল । লেখক মেসোমশাইকে দেখে তার নিজের লেখার ক্ষমতা সম্পর্কে বিশ্বাস জন্মায় এবং মনে হয়— “ লেখক হতে বাধা কী” । তারপর তার প্রথম লেখা গল্পটি দেখে ছোটোমেসো যখন প্রশংসা করে সেটি সন্ধ্যাতারা পত্রিকায় ছাপিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন এবং তপন তখন আরও উৎসাহিত ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে একের পর এক গল্প লেখার নেশায় মেতে ওঠে ।

অভিমানী: ছোটোমাসির সাথে তপনের বন্ধুত্বের সম্পর্ক থাকায় সে তার লেখা গল্প ছোটোমাসিকে দেখালে তিনি বলেন , “ কোনোখান থেকে টুকলিফাই করিসনি তো ? ” এই কথা শোনামাত্রই তপন অভিমানী হয়ে পড়ে ।

বাস্তববোধ : ‘সন্ধ্যাতারা ‘ পত্রিকায় তপনের লেখা গল্প দেখে পরিবারের সবাই প্রশংসা করে । কিন্তু যখনই মেসোমশাই কারেকশানের কথা বলেন তখনই তপনের মনে হয় তার কৃতিত্বটা অনেকটা ছোটো হয়ে যায় । এরপর সে প্রতিজ্ঞা করে — যদি কখনো লেখা ছাপতে দেয় তো , তপন নিজে গিয়ে দেবে । নিজের কাঁচা লেখা ছাপা হয় হোক না হয় না হোক। Madhyamik Suggestion 2022

“ শুধু এই দুঃখের মুহূর্তে গভীরভাবে সংকল্প করে তপন ” –কোন মুহূর্তকে দুঃখের বলা হয়েছে ? তপনের কাছে মুহূর্তটি দুঃখের বলে মনে হয়েছে কেন ? তপন কী সংকল্প করেছে ?
Ans : উৎস : কথাসাহিত্যিক ও লেখিকা আশাপূর্ণা দেবীর ‘ ‘জ্ঞানচক্ষু ‘ শীর্ষক গল্প থেকে আলোচ্য অংশটি গৃহীত হয়েছে ।

দুঃখের মুহূর্ত: তপনের লেখা প্রথম গল্পটি ‘সন্ধ্যাতারা ‘ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল । সেই গল্পটি ছাপার ক্ষেত্রে বাড়ির লোক তপনের থেকে তপনের নতুন মেসোর মহত্ত্বের কথাই বেশি করে বলেছিল । নতুন মেসো ‘কারেকশান ‘ করে দিয়েছিলেন বলে সেটি ছাপানো হয়েছে । এই কথাটি শুনে তপনের মন আহত হয়েছিল । তাই সেই মুহূর্তটিকে দুঃখের বলা হয়েছে ।

মুহূর্তটি দুঃখের বলে মনে হওয়ার কারণ: নতুন সৃষ্টি সব সময়ই স্রষ্টার মনে অব্যক্ত আনন্দ দেয় । তপনও তার প্রথম লেখা ‘প্রথম দিন ‘ নামক গল্পটি পত্রিকায় ছাপানো হয়েছে বলে সেইরকম আনন্দই পেতে চেয়েছিল । সে ভেবেছিল সত্যিই তার জীবনের সবচেয়ে সুখের দিনট এসেছে । কিন্তু পরেই মায়ের আদেশে পত্রিকায় প্রকাশিত গল্প পরতে গিয়ে তপন দেখল মেসোমশাই কারেকশান করার নাম করে প্রায় পুরো বদলে দিয়েছেন । এরপর “তপন আর পড়তে পারে না । বোবার মত বসে থাকে।” তপন কিন্তু নতুন মেসোমশাই – এর এই কাজটিকে মনে মনে মানতে পারেনি । নতুন েসো কিশোর তপনের লেখক মনটাকে গুরুত্ব না দেওয়ার হৃদয়মনে সে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিল । তাই তপনের কাছে সেই মুহূর্তটিকে দুঃখের বলে মনে হয়েছিল ।

সংকল্প : তপন মায়ের আদেশে গল্পটি পড়ে মনে খুব কষ্ট পায় । তখন সে মনে শক্ত করে একটা সংকল্প করে যে , লেখা যদি কখনো ছাপতে দেয় তাহলে সে নিজে গিয়ে দেবে । তাতে লেখাটি ছাপা না হলেও তপনের কিছু যায় আসবে না । “ নিজের কাঁচা লেখা ছাপা হয় হোক না হয় না হোক” , অন্তত তাকে শুনতে হবে না যে , “ অমুখ তপনের লেখা ছাপিয়ে দিয়েছে।” আর তপনকে যেন নিজের গল্প পড়তে বসে মনের সমস্ত কষ্ট চেপে রেখে অন্যের লেখা লাইন পড়তে না হয় এটাই সে সংকল্প করে ।

“নতুন মেসোকে দেখে ‘ জ্ঞানচক্ষু ‘ খুলে গেল তপনের ” — উৎস লেখো । উদ্ধৃতিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো ।
Ans: উৎস : আলোচ্য অংশটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কথাসাহিত্যিক তথা লেখিকা আশাপূর্ণা দেবীর লেখা ‘ জ্ঞানচক্ষু ‘ শীর্ষক গল্প থেকে উদ্ধৃত । তপন ছেলেবেলা থেকেই অনেক গল্প শুনেছে । সে কিশোর হয়ে অনেক গল্প পড়েছে । তবে তার মনে কিন্তু একটা অজানার জায়গা ছিল । সে ভাবত গল্পের যারা রূপকার অর্থাৎ লেখকেরা তার বাবা , ছোটোমামা , মেজোকাকুর মতো মানুষ নয় , তারা ছিল একটু অন্য জগতের মানুষ ।

তাৎপর্য: একটা ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তপনের সমস্ত ধারণা পাল্টে যায় । ক’দিন আগে তপনের ছোটোমাসির সঙ্গে বিবাহ হওয়া নতুন মেসোমশাই হলেন কলেজের প্রফেসার । অন্যদিকে তিনি আবার একজন লেখকও । তপন এই প্রথম এত কাছ থেকে জলজ্যান্ত একজন লেখককে দেখায় তার জ্ঞানচক্ষু খুলে গিয়ে সে দেখল- ” কোথাও কিছু উলটোপাখটা নেই , অন্যরকম নেই , একেবারে নিছক মানুষ । ” লেখকেরাও তপনের বাবা , মামা , কাকুর মতো দাড়ি কামান , সিগারেট খান , খেতে বসেই “ আরে ব্যস , এত কখনো খাওয়া যায় ? ” বলে অর্ধেকটা তুলে দেন । স্নানের সময় স্নান করেন , ঘুমের সময় ঘুমোন । তাছাড়া তারাও খবরের কাগজের কথা নিয়ে প্রবলভাবে গল্প এবং তর্ক করেন আর শেষ পর্যন্ত “ এদেশের কিছু হবে না ” বলে সিনেমা দেখতে চলে যান কিংবা বেড়াতে বের হন সেজেগুজে । লেখকদের সম্পর্কে এই বাস্তব ধারণা পেয়েই তপনের জ্ঞানচক্ষু খুলে গিয়েছিল অর্থাৎ তপনের অন্তর্দর্শন ঘটেছিল ।

Leave a Comment