Madhyamik Geography Suggestion 2024 | মাধ্যমিক বায়ু মণ্ডল সাজেশন ২০২4

Published On:

Madhyamik Geography Suggestion 2024
মাধ্যমিক বায়ু মণ্ডল সাজেশন ২০২4

Madhyamik Geography Suggestion 2024 | মাধ্যমিক সাজেশন বায়ু মণ্ডল ২০২4 যদি যদি কোন কিছু বাদ পড়ে যায় তাহলে কিন্তু তোমরা অবশ্যই নিচে কমেন্ট করে জানাবে। আমরা এই যে সাজেশন তৈরি করে দিলাম এটা কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ সমস্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য তো অবশ্যই কিন্তু full সাজেশনটা আপনারা কমপ্লিট করে নেবেন কারণ সমস্ত প্রশ্ন মাথায় রেখে এই সাজেশনটা তোমাদের জন্য তৈরি করা হয়েছে নিচে পিডিএফও দেওয়া রয়েছে অবশ্যই তোমরা পিডিএফ তাকে করে নেবে এবং তোমাদের বন্ধু-বান্ধবের সাথে অবশ্যই শেয়ার করে দেবে। Madhyamik বায়ু মণ্ডল Geography Suggestion 2024

যদি কারো কোন কিছু জানার থাকে বা বলার থাকে অবশ্যই নিজের কমেন্ট বক্সটিতে ক্লিক করে কমেন্ট করে দেবেন তাহলে আমাদেরও বুঝতে সুবিধা হবে কার কোথায় অসুবিধা রয়েছে বা সুবিধা হচ্ছে। Madhyamik Geography Suggestion 2023

আশা করব সম্পূর্ণ সাজেশনটা তোমাদের খুব কাজে আসবে তাই অনেক কষ্ট করে এই সাজেশনটা বানানো হয়েছে।

Madhyamik Geography Suggestion 2023 দেবে তাদের জন্য কিন্তু এই অংকে সাজেশনটা তৈরি করা হয়েছে। ২০২৩ এর মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের যদি আরও কোন সাজেশন লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই নিচে কমেন্ট করুন বা আমাদের ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন এবং সার্চ বক্সে আপনি আপনার প্রশ্নটি লিখুন দেখবেন তার উত্তর নিচে আপনারা পেয়ে যাবেন এবং সমস্ত সাবজেক্টের সাজেশন প্রশ্ন উত্তর পাওয়ার জন্য আমাদের ওয়েব পেজটাকে বুক মার্ক করে রাখুন তাতে তোমাদের সুবিধা হবে।

চাইলে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলেও যুক্ত হতে পারো টেলিকম চ্যানেলের লিংক নিচে দেওয়া রয়েছে ধন্যবাদ। Madhyamik Geography Suggestion 2023


Madhyamik Geography Suggestion বায়ু মণ্ডল 2024

মণ্ডল প্রশ্ন উত্তর – মাধ্যমিক ভূগোল সাজেশন 2024 – Madhyamik Geography Suggestion 2024 বহুৰিকল্পভিত্তিক প্রশ্ন

সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করে (প্রশ্নমান–1)

বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের পরিমাণ
(a) 20.94 শতাংশ (b) 20.27 শতাংশ (c) 20.86 শতাংশ (d) 20.9৪ শতাংশ
উত্তরঃ (a) 20.94 শতাংশ

বায়ুমণ্ডলের প্রধান গ্যাসীয় উপাদানটির নাম—
(a) অক্সিজেন (b) নাইট্রোজেন (c) কার্বন ডাইঅক্সাইড (d) ওজোন
উত্তরঃ (b) নাইট্রোজেন

বায়ুমণ্ডলে ওজোন গ্যাস _____ স্তরে ঘনীভূত অবস্থায় থাকে
(a) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার (b) মেসোস্ফিয়ার (c) ট্রপোস্ফিয়ার (d) আয়নোস্ফিয়ার
উত্তরঃ (a) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার

ট্রপোস্ফিয়ার ও স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের মধ্যবর্তী সীমাকে বলে—
(a) ট্রপোপজ (b) স্ট্রাটোপজ (c) মেসোপজ (d) আয়নোপজ
উত্তরঃ (a) ট্রপোপজ

ভূপৃষ্ঠ থেকে ওপরের দিকে বায়ুমণ্ডল প্রায় কত কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত?
(a) 1000 কিমি (b) 5000 কিমি (c) 10000 কিমি (d) 100000 কিমি
উত্তরঃ (c) 10000 কিমি

মেসোস্কিয়ার স্তরে উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে উষ্ণতা
(a) বাড়ে (b) কমে (c) একই থাকে (d) কোনোটিই নয়
উত্তরঃ (b) কমে

ভূপৃষ্ঠ থেকে ওপরের দিকে প্রায় কত কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত স্তরটিকে বলে হোমোস্ফিয়ার?
(a) 60 কিলোমিটার (b) 90 কিলোমিটার (c) 120 কিলোমিটার (d) 110 কিলোমিটার
উত্তরঃ (b) 90 কিলোমিটার

বায়ুমণ্ডলে কী আছে বলে আকাশ নীল দেখায়?
(a) ওজোন (b) অক্সিজেন (c) নাইট্রোজেন (d) ধূলিকণা
উত্তরঃ (d) ধূলিকণা

বৈপরীত্য উত্তাপ লক্ষ করা যায় বায়ুমণ্ডলের যে স্তরে সেটি হল
(a) আয়নোস্ফিয়ার (b) ট্রপোস্ফিয়ার (c) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার (d) মেসোস্ফিয়ার
উত্তরঃ (b) ট্রপোস্ফিয়ার

সূর্য থেকে আগত অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে
(a) ওজোন (b) আর্গন (c) জেনন (d) ক্রিপ্টন
উত্তরঃ (a) ওজোন

বায়ুমণ্ডলে প্রতি 1000 মিটার উচ্চতায় তাপমাত্রা হ্রাসের স্বাভাবিক হার হল—
(a) 6.3 ডিগ্রি সে (b) 4.6 ডিগ্রি সে (c) 6.6 ডিগ্রি সে (d) 6.5 ডিগ্রি সে
উত্তরঃ (d) 6.5 ডিগ্রি সে

স্বাভাবিক উষ্ণতা হ্রাসের হার দেখা যায়—
(a) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে (b) থার্মোস্ফিয়ারে (c) ট্রপোস্ফিয়ারে (d) মেসোস্ফিয়ারে
উত্তরঃ (c) ট্রপোস্ফিয়ারে

বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেনের শতকরা পরিমাণ
(a) 20.19 শতাংশ (b) 79.09 শতাংশ (c) 78.08 শতাংশ (d) 20.50 শতাংশ
উত্তরঃ (c) 78.08 শতাংশ

গ্রিনহাউস গ্যাস হল—
(a) অক্সিজেন (b) নাইট্রোজেন (c) কার্বন ডাইঅক্সাইড (d) ওজোন
উত্তরঃ (c) কার্বন ডাইঅক্সাইড

হোমোস্ফিয়ারের অন্য নাম
(a) বিষমমণ্ডল (b) ক্ষুদ্ধমণ্ডল (c) সমমণ্ডল (d) স্তদ্ধমণ্ডল
উত্তরঃ (c) সমমণ্ডল

ক্ষুদ্ধমণ্ডল বলা হল
(a) মেসোস্ফিয়ার (b) ট্রপোস্ফিয়ার (c) স্ট্রাটোস্ফিয়ার (d) ম্যাগনেটোস্ফিয়ার
উত্তরঃ (b) ট্রপোস্ফিয়ার

আবহাওয়া ও জলবায়ুর নানা ঘটনা ঘটে—
(a) মেসোস্ফিয়ারে (b) আয়নোস্ফিয়ারে (c) স্ট্রাটোস্ফিয়ারে (d) ট্রপোস্ফিয়ারে
উত্তরঃ (d) ট্রপোস্ফিয়ারে

বায়ুমণ্ডলের যে স্তরে মহাকাশ থেকে আগত উল্কাপিণ্ড পুড়ে ছাই হয়ে যায়. তার নাম
(a) ট্রপোস্ফিয়ার (b) স্ট্যাটোস্ফিয়ার (c) মেসোস্ফিয়ার (d) আয়োনোস্ফিয়ার
উত্তরঃ (c) মেসোস্ফিয়ার

অতিবেগুনি রশ্মি শোষিত হয়
(a) মেসোস্ফিয়ারে (b) ট্রপোস্ফিয়ারে (c) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে (d) আয়নোস্ফিয়ারে
উত্তরঃ (c) স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে

20.ট্রপোস্ফিয়ারে প্রতি কিমি উচ্চতায় উষ্ণতা কত করে হ্রাস পায় ?
(a) 4.6°C (b) 6.4°C (c) 5.2°C (d) 8.4°C
উত্তরঃ (b) 6.4°C

প্রতি 1,000 ফুট উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে বায়ুচাপ কী হারে কমে?
(a) 43 মিলিবার (b) 28 মিলিবার (c) 34 মিলিবার (d) 40 মিলিবার
উত্তরঃ (c) 34 মিলিবার

ফেরেলের সূত্র প্রতিষ্ঠিত হয় কত খ্রিস্টাব্দে।
(a) 1849 (b) 1859 (c) 1869 (d) 1959
উত্তরঃ (b) 1859

স্থলবায়ু কোন সময় প্রবাহিত হয় ?
(a) রাত্রিবেলায় (b) অপরাহ্নে (c) ভোরবেলায় (d) দুপুরবেলায়
উত্তরঃ (a) রাত্রিবেলায়

মেীসুমি বায়ু কোন শ্রেণির বায়ুপ্রবাহ ?
(a) নিয়ত বায়ু (b) স্থানীয় বায়ু (C) সাময়িক বায়ু (d) আকস্মিক বায়ু
উত্তরঃ (C) সাময়িক বায়ু

টর্নেডো কোন শ্রেণির বায়ুপ্রবাহ ?
(a) নিয়ত বায়ু (b) স্থানীয় বায়ু (c) সাময়িক বায়ু (d) আকস্মিক বায়ু
উত্তরঃ (b) স্থানীয় বায়ু

কোন্ যন্ত্রের সাহায্যে বায়ুর আর্দ্রতা মাপা হয় ?
(a) অ্যানিমোমিটার (b) রেনগজ (d) বাতপতাকা
উত্তরঃ (c) হাইগ্রোমিটার

পর্বতের কোন্ ঢালে শৈলোৎক্ষেপ বৃষ্টিপাত হয় ?
(a) মৃদু ঢালে (b) প্রতিবাত ঢালে (c) অনুবাত ঢালে (d) কোনোটিই নয়
উত্তরঃ (b) প্রতিবাত ঢালে

ওজোন গ্যাসের ঘনত্ব মাপার একক হল
(a) মিলিবার (b) শতকরা (d) ডিগ্রি সেলসিয়াস
উত্তরঃ (c) ডবসন

বায়ুচাপ মাপার যন্ত্র হল
(a) হাইগ্রোমিটার (b) ব্যারোমিটার (c) অল্টিমিটার (d) থার্মোমিটার
উত্তরঃ (b) ব্যারোমিটার

প্রতি বর্গসেমি স্থানে প্রমাণ ‘সমুদ্রপৃষ্ঠীয় বায়ুর চাপ’ কত?
(a) 6 কিগ্রা (b) 4 কিগ্রা (c) 2 কিগ্রা (d) 1 কিগ্রা
উত্তরঃ (d) 1 কিগ্রা

পৃথিবীব্যাপী স্থায়ী চাপ বলয়ের সংখ্যা
(a) 4 টি (b) 3টি (c) 5টি (d) 7টি
উত্তরঃ (d) 7টি

বায়ুর গতিবেগ মাপার যন্ত্র হল
(a) অ্যানিমোমিটার (b) থার্মোমিটার (c) অল্টিমিটার (d) হাইগ্রোমিটার
উত্তরঃ (a) অ্যানিমোমিটার

বায়ুপ্রবাহের গতিবেগ মাপার একক কী?
(a) মিলিবার (b) ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড (c) অক্টাস (d) নট
উত্তরঃ (d) নট

বাণিজ্য বায়ু’ বলা হয় কোন নিয়তবায়ুকে?
(b) পশ্চিমা বায়ু (c) মেরু বায়ু (d) সব কটি
উত্তরঃ (a) আয়ন বায়ু

আপেক্ষিক আর্দ্রতা প্রকাশ করা হয়
(a) গ্রাম হিসেবে (b) কিলোগ্রাম হিসেবে (c) শতকরা হিসেবে (d) দশমাংশ হিসেবে
উত্তরঃ (c) শতকরা হিসেবে

অ্যালবেডোর পরিমাপ করা হয় কোন্ যন্ত্রের সাহায্যে?
(a) অ্যানিমোমিটার (b) হাইগ্রোমিটার (c) অ্যালবিডোমিটার (d) বাতপতাকা
উত্তরঃ (c) অ্যালবিডোমিটার

মেঘাচ্ছন্নতা পরিমাপ করার একক হল
(a) নট (b) অক্টাস (C) সেমি (d) গ্রাম
উত্তরঃ (b) অক্টাস

সীমান্ত বৃষ্টি হয় কোন্ ধরনের ঘূর্ণবাতে?
(a) নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাতে (b) ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতে (c) প্রতীপ ঘূর্ণবাতে (d) সব ক-টি
উত্তরঃ (a) নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাতে

বায়ুর শক্তির মাত্রা নির্ণয় করা হয় কোন্ স্কেলের সাহায্যে?
(a) রিখটার স্কেল (b) বিউফোর্ট স্কেল (c) মার্কালি স্কেল (d) কোনটিই নয়
উত্তরঃ (b) বিউফোর্ট স্কেল

40° দক্ষিণ অক্ষরেখায় সাহসী পশ্চিমা বায়ু কী নামে পরিচিত?
(a) গর্জনশীল চল্লিশা (b) ভয়ংকর পঞ্চাশ (c) তীক্ষ্ণ চিৎকারকারী ষাট (d) সবকটি
উত্তরঃ (a) গর্জনশীল চল্লিশা


Madhyamik History Suggestion 2023

বিভাগ – খ :বায়ু মণ্ডল প্রশ্ন উত্তর – মাধ্যমিক ভূগোল সাজেশন 2023 – Madhyamik Geography Suggestion 2023
অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরখমী প্রশ্ন : (প্রশ্নমান-1)

শূন্যস্থান পূরণ করো :

___ স্তরকে শান্তমণ্ডল বলে।
উত্তরঃ স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার

ক্ষুব্ধমণ্ডল___ স্তরকে বলে।
উত্তরঃ ট্রপোস্ফিয়ার

আর্গন একপ্রকার ___গ্যাস।
উত্তরঃ নিষ্ক্রিয়

প্রধানত___ গ্যাস ওজোনস্তর ধ্বংসের জন্য দায়ী।
উত্তরঃ ক্লোরোফ্লুরোকার্বন

___অঞ্চলে সূর্যরশ্মির তাপীয় ফল বেশি।
উত্তরঃ নিরক্ষীয়

বায়ুর ঘনত্ব বাড়লে চাপ _।
উত্তরঃ বাড়ে

___যন্ত্রের সাহায্যে বায়ুর উষ্ণতার প্রসর মাপা হয়।
উত্তরঃ লঘিষ্ঠ ও গরিষ্ঠ থার্মোমিটার

বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বাড়লে বায়ুর চাপ___ ।
উত্তরঃ কমে

লু একপ্রকার ___বায়ু।
উত্তরঃ স্থানীয়

চিন সাগরে ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় ___ নামে পরিচিত।
উত্তরঃ টাইফুন

___ বায়ুকে সমুদ্রবায়ু ও স্থলবায়ুর বৃহৎ সংস্করণ বলে।
উত্তরঃ মৌসুমি

সম্পৃক্ত বায়ুর আপেক্ষিক আর্দ্রতা ___শতাংশ হয়।
উত্তরঃ 100

ঘূর্ণবাতের নিম্নচাপবিশিষ্ট কেন্দ্রকে ঘূর্ণবাতের ___ বলে।
উত্তরঃ চক্ষু

50° দক্ষিণ অক্ষরেখায় পশ্চিমা বায়ুকে বলা হয় ___।
উত্তরঃ ভয়ংকর পঞ্চাশ

বৃষ্টিচ্ছায় অঞল পর্বতের ___ঢালে অবস্থান করে।
উত্তরঃ অনুবাত

‘তুষারভক্ষক বায়ু’ বলে___ কে।
উত্তরঃ চিনুক

‘Doctor of wind’ বলে ___বায়ুকে।
উত্তরঃ হারমাট্টন

1939 খ্রিস্টাব্দে জার্মান আবহবিদ ___ জেট বায়ুপ্রবাহের নামকরণ করেন।
উত্তরঃ হাইনরিখ সিলকোফ

60° দক্ষিণ অক্ষরেখায় পশ্চিমা বায়ুকে বলা হয় ___।
উত্তরঃ তীক্ষ্ণ চিৎকারকারী ষাট

সমচাপরেখাগুলি যত ঘনসন্নিবিষ্ট হয়, বায়ুচাপের পার্থক্য তত ___হয়।
উত্তরঃ বেশি


Madhyamik Geography Suggestion 2023 সত্য/মিথ্যা নিরুপণ করো : বায়ু মণ্ডল

বায়ুমণ্ডল একটি মিশ্র গ্যাসীয় পদার্থ। [T]
শিশির ও কুয়াশা অধঃক্ষেপণের ভিন্ন ভিন্ন রূপ। [F]
সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর ঘনত্ব প্রতি ঘনমিটারে 1,200 গ্রাম। [T]
চরম আর্দ্রতার একক হল গ্রাম/ঘনমিটার। [T]
স্পেকট্রোফোটোমিটার যন্ত্রের সাহায্যে ওজোন গ্যাসের ঘনত্ব নির্ণয় করা হয়। [T]
দিনের আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে তাপীয় ফল বেশি হয়। [F]
বায়ুপ্রবাহের পরিমাপের একক মিলিবার। [F]
সাইক্লোন একপ্রকার সাময়িক বায়ু। [F]
পরিচলন বৃষ্টিপাত সর্বাধিক হয় নিরক্ষীয় অঞ্চলে। [T]
বায়ু উষ্ণ হলে ঘনত্ব কমে, তাই চাপও কমে। [T]
ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে উচ্চচাপ ও প্রতীপ ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে নিম্নচাপ বিরাজ করে।[F]
উদ্ভিদশূন্য অঞ্চলের উষ্ণুতা চরম প্রকৃতির হয়।[T]
মৌসুমি বায়ু একপ্রকার ঋতুভিত্তিক সাময়িক বায়ু। [T]
প্রতীপ ঘূর্ণবাত সৃষ্টি হলে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে। [F]
‘মৌসিন’ ও ‘মনসিম’ উভয় শব্দের অর্থ ঋতু। [T]


Madhyamik physical science Suggestion 2023

একটি বা দুটি শব্দে উত্তর দাও : বায়ু মণ্ডল
বায়ুমণ্ডলের সর্বোচ্চ স্তরটির নাম কী?
উত্তরঃ ম্যাগনেটোস্ফিয়ার

বায়ুমণ্ডলের কোন্ গ্যাস অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে?
উত্তরঃ ওজোনস্তর

ট্রপোস্ফিয়ার স্তরটির নামকরণ কে করেন?
উত্তরঃ বিজ্ঞানী টিসেরেনি ডি বোর্ট

বায়ুমণ্ডলের কোন্ স্তরে চৌম্বকক্ষেত্র রয়েছে?
উত্তরঃ ম্যাগনেটোস্ফিয়ার

ITCZ-এর পুরো নাম কী?
উত্তরঃ Inter Tropical Convergence Zone

কোন যন্ত্রের সাহায্যে বায়ুর চাপ মাপা যায় ?
উত্তরঃ ব্যারোগ্রাফ

কোন যন্ত্রের সাহায্যে বায়ুর উষ্ণতা মাপা হয়?
উত্তরঃ থার্মোগ্রাফ

CFC-এর পুরো নাম কী?
উত্তরঃ ক্লোরোফ্লুরোকার্বন

কোন্ যন্ত্রের সাহায্যে বায়ুর দিক নির্ণয় করা হয় ?
উত্তরঃ বাতপতাকা

পৃথিবীর সর্বাধিক শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের নাম কী?
উত্তরঃ টর্নেডো

পাঞ্জাব ও রাজস্থানের ধুলিঝড় কী নামে পরিচিত?
উত্তরঃ আঁধি

বায়ুপ্রবাহের জন্য দায়ী কোন্ বল?
উত্তরঃ কোরিওলিস বল

পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জের বিধ্বংসী ঝড় কী নামে পরিচিত?
উত্তরঃ হ্যারিকেন

বিমানে বায়ুর চাপ মাপা হয় কোন্ যন্ত্রের সাহায্যে ?
উত্তরঃ অল্টিমিটার

ফন্ কোথায় প্রবাহিত হয়?
উত্তরঃ রাইন নদী উপত্যকায়

বৃষ্টিপাত পরিমাপক যন্ত্রের নাম কী?
উত্তরঃ রেনগেজ


স্তম্ভ মেলাও : বায়ু মণ্ডল
বামস্তম্ভ ডানস্তত
(i) পরিচলন বৃষ্টিপাত (a) রেনগেজ
(ii) 100% আপেক্ষিক আর্দ্রতা (b) স্পেকট্রোফোটোমিটার
(iii) এল-নিনো (c) বাতপতাকা
(iv) বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল (d) হাইগ্রোমিটার
(v) খামসিন (e) অ্যানিমোমিটার
(vi) আপেক্ষিক আদ্রর্তা (f) থার্মোমিটার
(vii) বায়ুর গতিবেগ (৪) ব্যারোমিটার
(viii) বায়ুর চাপ (h) প্রশান্ত মহাসাগর
(ix) বায়ুর উষ্ণতা (i) কর্ণাটক মালভূমি
(x) ওজোন গ্যাসের ঘনত্ব (j) নিরক্ষীয় অঞ্চল
(xi) বায়ুপ্রবাহের দিক (k) স্থানীয় বায়ু
(xii) বৃষ্টিপাত (1) পরিপৃক্ত বায়ু
উত্তরঃ (i)-(j), (ii)-(l), (iii)-(h), (iv)-(i), (v)-(k), (iv)-(d), (vii)-(e), (viii)-(g), (ix)-(f), (x)-(b), (xi)-(c), (xii)-(a)


Madhyamik Geography Suggestion 2023 একটি বা দুটি শব্দে উত্তর দাও : বায়ু মণ্ডল

1. প্রত্যয়ন বায়ু কাকে বলে?
উত্তর : প্রধানত পৃথিবীর আবর্তন গতির প্রভাবে দুই মেরুবৃত্ত প্রদেশে দুটি নিম্নচাপ বলয়ের সৃষ্টি হয়েছে। বায়ুর চাপের সমতা রক্ষার জন্য উপক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে বায়ু সারাবছর ধরে নিয়মিতভাবে ওই দুই মেরুবৃত্ত প্রদেশের দিকে ছুটে যায়। এভাবে সৃষ্টি হয় পশ্চিমা বায়ু। যেহেতু আয়ন বায়ুর গতিপথের ঠিক বিপরীত দিকে এই পশ্চিমা বায়ু প্ৰৰাহিত হয়, তাই এই পশ্চিমা বায়ুকেই প্রত্যয়ন বায়ু বলে।

2. অধঃক্ষেপণ কাকে বলে?
উত্তর : বায়ুমণ্ডলের জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয়ে তরল ও কঠিন অবস্থায় মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে ভূপঠে নেমে এলে তাকে অধঃক্ষেপণ বা বৃষ্টিপাত বলে।

3. অ্যারোসলের গুরুত্ব কী?
উত্তর : Aero’ শব্দের অর্থ ‘বায়ু’ এবং ‘Sol’ এর অর্থ ‘ধূলিকণিকা’। বায়ুতে ভাসমান ধূলিকণা, ছাইভস্ম, লবণকণা যখন কঠিন বা তরল অবস্থায় কোনো কলয়ডীয় দ্রবণ তৈরি করে তাদের অ্যারোসল বলে।
⦿ গুরুত্ব ➺
(i) অ্যারোসলকে আশ্রয় করে জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয়ে মেঘ ও মেঘ থেকে বৃষ্টিপাত হয়।
(ii) অ্যারোসল বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত করতে সাহায্য করে।

5. ট্রপোপজ কাকে বলে?
উত্তর : ট্রপোস্ফিয়ারের ঊর্ধ্বে প্রায় 3 কিমি উচ্চতা পর্যন্ত অংশে উষ্ণতার কোনো হ্রাস বৃদ্ধি হয় না। একে ট্রপোপজ বলে।

⦿ বৈশিষ্ট্য ➺
(i) নিরক্ষীয় অঞ্চলে 16-18 কিমি; ক্রান্তীয় অঞ্চলে 12-14 কিমি, মেরু অঞ্চলে 7-8 কিমি.।
(ii) Sir Napier Shaw সর্বপ্রথম নামকরণ করেন।
(iii) টপোপজ কথার অর্থ Where Mixing stops.
7. মেসোপজ কাকে বলে?

⦿মেসোপজ : মেসোস্ফিয়ার এবং থার্মোস্ফিয়ার এই দুই বায়ুস্তরের সীমা নির্দেশক সংযোগকারী উপস্তরকে মেসোপজ (Mesopause) বলে। মেসোস্ফিয়ারের বায়ুস্তর এই অঞ্চলে এসে থেমে যায়, তাই একে মেসোপজ বলে। গ্রীক শব্দ “Mesos” এর অর্থ ‘মধ্যভাগ’ ও “Sphere” এর অর্থ মন্ডল।

⦿ বৈশিষ্ট্য ➺ এর বৈশিষ্ট্যগুলি হল –
1. মেসোপজ অঞ্চলে বায়ুর তাপমাত্রা হয় প্রায় -১০০° সেন্টিগ্রেড।
2. এখানে বায়ুর মিশ্রণ থেমে যায়।
3. এটি মেসোস্ফিয়ার এবং থার্মোস্ফিয়ার এই দুই স্তরের মধ্যবর্তী সীমা নির্দেশক উপস্তর।
8. স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারকে শান্তমণ্ডল বলে কেন?

⦿স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারকে শান্তমণ্ডল বলে কারণ : ট্রপোস্ফিয়ারের উপরে ১৮ কিলোমিটার থেকে ৫০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত অবস্থিত বায়ুস্তরকে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার (Stratosphere) বলে। এই স্তরে ধূলিকণা, মেঘ প্রভৃতি না থাকায় এখানে ঝড়, বৃষ্টি, বজ্রপাত প্রভৃতি প্রাকৃতিক ঘটনাগুলি ঘটে না। তাই একে শান্তমণ্ডল বলা হয়। গ্রীক শব্দ “Stratos” এর অর্থ ‘শান্ত’ ও “Sphere” এর অর্থ ‘মন্ডল’।

⦿ বৈশিষ্ট্য ➺ স্ট্রাটোস্ফিয়ার এর বৈশিষ্ট্যগুলি হল নিম্নরূপ –
1. স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের উর্ধ্ব অংশে ২৪–৪০ কিমি উচ্চতা পর্যন্ত অঞ্চলে ওজোন গ্যাস পাওয়া যায়। এই কারণে এই অংশের নাম ওজোনােস্ফিয়ার।
2. স্ট্রাটোস্ফিয়ারের উর্ধ্বসীমানার নাম স্ট্যাটোপজ।

9. ট্রপোস্ফিয়ারকে ক্ষুব্বমণ্ডল বলে কেন?

উত্তর : বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন স্তরের নাম ট্রোপােস্ফিয়ার। এই স্তরটি ভূপৃষ্ঠ থেকে ওপরের দিকে 12 কিমি উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। এই স্তরে বায়ুর মধ্যে ধূলিকণা, জলীয় বাষ্প, মেঘ প্রভৃতি থাকে। ফলে এই স্তরের মধ্যেই ঝড়, বৃষ্টি, বজ্রপাত প্রভৃতি প্রাকৃতিক ঘটনাগুলি ঘটে। তাই ট্রোপােস্ফিয়ারকে ‘ক্ষুব্ধমণ্ডল’ বলা হয়।

10. চৌম্বকমণ্ডল কাকে বলে?

উত্তর : এক্সোস্ফিয়ারের পরে ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় 10 হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত বায়ুমন্ডলের সর্বশেষ স্তরকে ম্যাগনেটোস্ফিয়ার বলা হয়। এই স্তরে ইলেকট্রন ও প্রোটন কণা দ্বারা গঠিত চৌম্বক ক্ষেত্র সৃষ্টি হয় তাই এই স্তরের নাম ম্যাগনেটোস্ফিয়ার বা চৌম্বক মন্ডল।

12. এল নিনাে বলতে কী বােঝ?
⦿এল নিনাে : স্পেনীয় শব্দ ‘এল নিনাে’র ইংরেজি অর্থ Christ Child’ এবং বাংলায় ‘শিশু খ্রিস্ট’। অনেকে আবার একে ‘Little boy’ বা ‘ছােট্ট ছেলে’বলেন। সাধারণভাবে বলা যায়, ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্বপ্রান্তে পেরু, ইকুয়েডরের পশ্চিম উপকূল দিয়ে কোনাে কোনাে বছর ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে, বিশেষত ক্রিসমাসের সময় শীতল পেরু স্রোতের পরিবর্তে যে উষ্ণ স্রোত প্রবাহিত হয়, তাকে এল নিনাে বলে। এল নিনাের ফলে বায়ুমণ্ডলের উষ্ণতা বেড়ে যায়।

14. ইনসোলেশন কী?
⦿ইনসোলেশন : সূর্য থেকে আগত শক্তির 200 কোটি ভাগের 1 ভাগ ক্ষুদ্র তড়িৎ চৌম্বক তরঙ্গের আকারে বা আলোক তরঙ্গের আকারে প্রতি সেকেন্ডে 2,97,000 কিমি বা 1,86,000 মাইল বেগে পৃথিবীর আসে। একে বলে ইনসোলেশান বা আগত সৌর বিকিরণ। ইংরেজি শব্দ ‘Insolation’-এর অর্থ – ‘Incoming Solar Radiation’।

⦿নিয়ন্ত্রক : সূর্যরশ্মির পতনকোণ, সূর্যালোকের দৈর্ঘ্য, সৌরস্থিরাঙ্ক, পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যে দূরত্ব এবং বায়ুমণ্ডলের স্বচ্ছতা প্রভৃতি।

15. কার্যকরী সৌর বিকিরণ কাকে বলে?
⦿কার্যকরী সৌর বিকিরণ : সূর্য থেকে যে পরিমাণ শক্তি আসে তার 200 কোটি ভাগের এক ভাগ ক্ষুদ্র তড়িৎ চুম্বক তরঙ্গরূপে পৃথিবীর দিকে ছুটে আসে। এই এক ভাগকে খাদ 100% ধরা হয় দেখা যাবে 66% ( 15% বায়ুমণ্ডল, 34% ভূপৃষ্ঠ শোষণ, 17% মেঘ দ্বারা বিচ্ছুরিত হয়ে ভূপৃষ্ঠে পৌঁছায়) পৃথিবীপৃষ্ঠ ও বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করতে সমর্থ হয়। একে বলে কার্যকরী সৌর বিকিরণ।
16. পৃথিবীর অ্যালবেডো কী?
⦿পৃথিবীর অ্যালবেডো : সূর্য থেকে আগত মোট শক্তির 200 কোটি ভাগের 1 ভাগ পৃথিবীর দিকে ছুটে আসে। এই আগত শক্তিকে যদি 100% ধরা হয়। তবে 34% পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্তন করে মহাশূন্যে ফিরে যায়। একে বলে অ্যালবেডো।

⦿ বৈশিষ্ট্য ➺
i. সবচেয়ে বেশি মেঘ দ্বারা (25%) ও কম স্থল ভাগ (2%) থেকে বিক্ষিপ্ত হয়।
ii. বায়ুর উত্তাপ বাড়াতে কোনো ভূমিকা নেই।
iii. অ্যালবেডো পরিমাপক যন্ত্র অ্যালবেডোমিটার।

17. সমোষ্ণরেখা কাকে বলে?
⦿সমোষ্ণরেখা : ভূপৃষ্ঠের যেসব স্থানে বার্ষিক উষ্ণতা একইরকম থাকে, সেইসব স্থানকে কাল্পনিক রেখার সাহায্যে যুক্ত করে মানচিত্রে দেখানো হয়। একে বলে সমোষ্ণরেখা।

i. মেরুর দিকে সমোষ্ণরেখা মান কমতে থাকে।
ii. সমুদ্রের উপর সমোষ্ণরেখা সমান্তরালে থাকে।
iii. গ্রীষ্মকালে রেখাগুলি স্থলভাগ থেকে সমুদ্রের দিকে নিরক্ষরেখার দিকে বাঁক নেয়।
iv. সমাক্ষরেখাব প্রায় সমান্তরালে অবস্থান করে।
18. কোরিওলিস বল কী?
⦿নামকরণ : উনবিংশ শতকের ফরাসী গণিতবিদ ও বিজ্ঞানী গুস্তাভ-গাসপার্ড ডি কোরিওলিস (Gustave-Gaspard De Coriolis, 1792-1843) সর্বপ্রথম ঘূর্ণনসাপেক্ষে গতিশীল বস্তুর দিক বিক্ষেপকারী এইপ্রকার বলের বিষয়ে আলোকপাত করেন বলে তাঁর নামানুসারে এই বলের নাম কোরিওলিস বল রাখা হয়েছে।

⦿সংজ্ঞা : পৃথিবীর আবর্তনজনিত ঘূর্ণনের প্রভাবে ভূপৃষ্ঠস্থ যে কোনো স্বচ্ছন্দ, গতিশীল বস্তুর উপর একধরনের বল কাজ করে, যা উক্ত বস্তুর দিক বিক্ষেপ ঘটায়। এই বলকে কোরিওলিস বল (Coriolis Force) বলে।

⦿ বৈশিষ্ট্য ➺
কোরিওলিস বলের প্রধান বৈশিষ্ট্য হল –
(i) এটি বায়ুপ্রবাহের দিকের সঙ্গে সমকোণে কাজ করে,
(ii) এর প্রভাবে বায়ুর বেগের কোনো হেরফের হয় না,
(iii) বায়ুর বেগ যত বাড়ে, এই বলের প্রভাবে দিবিক্ষেপ তত বাড়ে। মনে রাখবে প্রবহমান (বায়ু, সমুদ্রস্রোত ইত্যাদি) বস্তুর ওপরই কেবল কোরিওলিস বল কাজ করে।

21. ফন কী?
⦿ফন : আল্পস পর্বতের উত্তর ঢাল বেয়ে নীচের দিকে নেমে এসে মধ্য ইউরোপের সমভূমির উপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ুকে বলে ফন।

22. চিনুক কী?
⦿চিনুক : আর্দ্র বায়ু উপকূলীয় পর্বতের প্রতিবাত ঢাল বরাবর উপরে উঠে মেঘ ও বৃষ্টিপাত সৃষ্টি করার পর অনুবাত অঞ্চলে নেমে এসে উষ্ণ ও শুষ্ক বায়ুরূপে প্রবাহিত হয়। উত্তর আমেরিকার রকি পর্বতের অনুবাত ঢালে প্রবাহিত এরকম উষ্ণ ও শুষ্ক বায়ুপ্রবাহ চিনুক (Chinook) নামে পরিচিত। ‘Chinook’ একটি রেড ইন্ডিয়ান শব্দ, যার অর্থ হল ‘তুষার ভক্ষক’।
⦿ বৈশিষ্ট্য ➺ এর বৈশিষ্ট্যগুলি হল –
1. এটি একপ্রকার উষ্ণ (১৮°C – ২১°C) ও শুষ্ক আঞ্চলিক বায়ুপ্রবাহ।
2. শীতের শেষে ও বসন্তের শুরুতে চিনুক প্রবাহিত হয়।
3. স্থানীয় বায়ুচাপ ও তাপের পার্থক্যই চিনুকের উৎপত্তির কারণ।
19. জিওস্ট্রোফিক বায়ু কী?
⦿জিওস্ট্রোফিক বায়ু : ঊর্ধ্ব পরস্পরমুখী বায়ুস্তরে যেখানে ঘর্ষণজনিত বাধা থাকে না সেখানে বায়ুচাপীয় ঢালশক্তি ও কোরিওলিস বলের পরস্পরমুখী প্রভাবে সমচাপরেখা সমান্তরালে প্রবাহিত বায়ুচাপকে জিওস্ট্রপিক বায়ু বলে।
⦿ বৈশিষ্ট্য ➺
(i) 500 মিটারের বেশি উচ্চতায় দেখা যায়।
(ii) পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়।

20. স্থানীয় বায়ু কাকে বলে?
⦿স্থানীয় বায়ু : ভূপৃষ্ঠের একটি নির্দিষ্ট স্থানে যখন ভূপ্রকৃতি, মৃত্তিকা, শিলার প্রকৃতি, উদ্ভিদের আচ্ছাদন, বায়ুর উষ্ণতা প্রভৃতির তারতম্যে থানীয়ভাবে বায়ুচাপের। তারতম্য হয়, তখন সেখানকার উচ্চচাপ এলাকা থেকে নিম্নচাপ এলাকার দিকে এক ধরনের বায় প্রবাহিত হয়। স্থানীয় কারণে উৎপত্তি হয় বলে এদের স্থানীয় বায়ু বলা হয়। বায়ুর প্রকৃতি অনুসারে স্থানীয় বায়ুকে দুভাগে ভাগ করা যায় — উষ্ণ বায়ু এবং শীতল বায়ু।

21. ফন কী?
⦿ফন : আল্পস পর্বতের উত্তর ঢাল বেয়ে নীচের দিকে নেমে এসে মধ্য ইউরোপের সমভূমির উপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ুকে বলে ফন।

22. চিনুক কী?
⦿চিনুক : আর্দ্র বায়ু উপকূলীয় পর্বতের প্রতিবাত ঢাল বরাবর উপরে উঠে মেঘ ও বৃষ্টিপাত সৃষ্টি করার পর অনুবাত অঞ্চলে নেমে এসে উষ্ণ ও শুষ্ক বায়ুরূপে প্রবাহিত হয়। উত্তর আমেরিকার রকি পর্বতের অনুবাত ঢালে প্রবাহিত এরকম উষ্ণ ও শুষ্ক বায়ুপ্রবাহ চিনুক (Chinook) নামে পরিচিত। ‘Chinook’ একটি রেড ইন্ডিয়ান শব্দ, যার অর্থ হল ‘তুষার ভক্ষক’।
⦿ বৈশিষ্ট্য ➺ এর বৈশিষ্ট্যগুলি হল –
1. এটি একপ্রকার উষ্ণ (১৮°C – ২১°C) ও শুষ্ক আঞ্চলিক বায়ুপ্রবাহ।
2. শীতের শেষে ও বসন্তের শুরুতে চিনুক প্রবাহিত হয়।
3. স্থানীয় বায়ুচাপ ও তাপের পার্থক্যই চিনুকের উৎপত্তির কারণ।
23. ক্যাটাবেটিক বায়ুপ্রবাহ কাকে বলে?
⦿ক্যাটাবেটিক বায়ুপ্রবাহ : গ্রিক শব্দ ‘Kata’ কথার অর্থ নিম্নমুখী। শীতল পার্বত্য অঞ্চলে রাত্রিবেলা আকাশ মেঘমুক্ত থাকলে পার্বত্য ঢালে উপরের অংশ দ্রুত তাপ বিকিরণ করে শীতল ও ভারী হয়ে যায়। ফলে শীতল ও ভারী বাতাস পাহাড়ের ঢাল বরাবর নীচে নেমে আসে। তাকে বলে ক্যাটাবেটিক বায়ু।

24. অ্যানাবেটিক বায়ুপ্রবাহ কাকে বলে?
⦿অ্যানাবেটিক বায়ুপ্রবাহ : দিনের বেলা সূর্যতাপে উপত্যকার নিম্নাংশ অপেক্ষা ঢালু অংশ (mountain slope) বেশি গরম হয়। ফলে উপত্যকায় নিম্নাংশের বায়ু পর্বতের ঢাল বরাবর উপরের দিকে ওঠে। এটি হল উপত্যকা বায়ু। এই ঊর্দ্ধঢাল বায়ুরই অপর নাম অ্যানাবেটিক বায়ু (Anabatic Wind)।

⦿ বৈশিষ্ট্য ➺
1. সূর্য ওঠার কিছু পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত এইপ্রকার বায়ুপ্রবাহ চলতে থাকে। তবে এইপ্রকার বায়ুর গতিবেগ সবথেকে বেশী হয় দুপুরের কিছু সময় পর।
2. এইপ্রকার বায়ু মূলত পার্বত্য অঞ্চলে ভূমির বন্ধুরতার জন্য সৃষ্টি হয়ে থাকে।

25. এল-নিনো কী?
⦿এল-নিনো : উত্তর:- সাধারণ অবস্থায় প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্বেপেরু, ইকুয়েডর উপকূল বরাবর হামবোল্ড স্রোত আসে। কোনো-কোনো বছর এই অঞ্চলে উত্তর দিক থেকে গরম জলের স্রোত (এল-নিনো স্রোত) এসে অঞ্চলটিকে ঢেকে ফেলে উষ্ণতা বাড়িয়ে দেয়। ফলে প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্বে হয় নিম্নচাপ এবং পশ্চিমে উচ্চচাপ। এই অবস্থায় পেরু, ইকুয়েডরে প্রবল বৃষ্টি ও বন্যা দেখা দেয় এবং পশ্চিমে অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় হয় খরা। এই অবস্থা হল এল-নিনো (অর্থ শিশু খ্রিস্ট)।

26. গ্লোবাল ওয়ার্মিং কী?
⦿গ্লোবাল ওয়ার্মিং : বিজ্ঞাননির্ভর আধুনিক জীবনযাত্রায় মানুষের নানা ক্রিয়াকলাপের ফলে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসগুলির পরিমাণ বেড়ে চলেছে। এর প্রভাবে পৃথিবীর প্রাকৃতিক পরিবেশ ক্রমশ গরম হয়ে উঠছে। সমগ্র বিশ্বজুড়ে ক্রমাগত উষ্ণতা বৃদ্ধির এই ঘটনাকে গ্লোবাল ওয়ার্মিং (global warming) বা বিশ্বউষ্ণায়ন বলে।

27. স্থলবায়ু কী?
⦿স্থলবায়ু : সন্ধ্যাবেলার পর থেকে সারা রাত্রি (বিশেষত ভোরবেলা) স্থলভাগ থেকে সমুদ্রভাগের দিকে প্রবাহিত বায়ুকে স্থলবায়ু (Land Breeze) বলে।
⦿ বৈশিষ্ট্য ➺ স্থলবায়ুর বৈশিষ্ট্যগুলি হল –
1. স্থলবায়ুর গতিবেগ মোটামুটি ৫ – ১০ কি.মি/ঘন্টা হয়।
2. এই বায়ুপ্রবাহ বায়ুমন্ডলে উল্লম্বভাবে মোটামুটিভাবে ২ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।

28. সমুদ্রবায়ু কী?
⦿সমুদ্রবায়ু : মূলত দিনের বেলা (বিশেষত অপরাহ্নে) সমুদ্রভাগ থেকে স্থলভাগের দিকে প্রবাহিত বায়ুকে সমুদ্রবায়ু (Sea Breeze) বলে।
⦿ বৈশিষ্ট্য ➺
সমুদ্রবায়ুর বৈশিষ্ট্যগুলি হল –
1. অপরাহ্নে সমুদ্রবায়ুর প্রভাব উল্লম্বভাবে বায়ুমন্ডল এর ১–২ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে।
2. সমুদ্রবায়ুর গতিবেগ মোটামুটি ১০–১৫ কি.মি/ঘন্টা হয়।
29. জেট বায়ু কী?
⦿জেট বায়ু : ঊর্ধ্ব ট্রপােস্ফিয়ারে প্রবাহিত অত্যন্ত শীতল, দ্রুতগতিসম্পন্ন, সংকীর্ণ, সর্পিলাকার বায়ুপ্রবাহকে জেট বায়ু বলে।
⦿ বৈশিষ্ট্য ➺ জেট বায়ুর বৈশিষ্ট্যগুলি হল —
1. জিওস্ট্রফিক বায়ু : ঊধ্ব বায়ুমণ্ডলে জেট বায়ুপ্রবাহ সমচাপরেখার সমান্তরালে প্রবাহিত হয়। তাই এটি জিওট্রফিক বায়ু নামে পরিচিত।
2. বায়ুর গতিবেগ : এটি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং দ্রুতগামী বায়ু। এই বায়ু ঘণ্টায় 100-500 কিমি বেগে প্রবাহিত হয়।

30. ঘূর্ণবাতের চক্ষু কী?
⦿উত্তর : শক্তিশালী ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে এক গতিহীন, শান্তপ্রায় মেঘশূন্য অবস্থা বিরাজ করে। একে ঘূর্ণবাতের চক্ষু বা ঝড়ের চক্ষু বলে। এর ব্যাস প্রায় ১০ কিমি থেকে 20 কিমি বিস্তৃত। ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতের চক্ষুর চারিদিকে নিথোস্ট্রাটাস মেঘের আন্তরণ থাকে। একে ঝড়ের চক্ষু প্রাচীর বলে।

31. গ্রিনহাউস প্রভাব কী?
⦿গ্রিনহাউস প্রভাব : সূর্যরশ্মিতে উপস্থিত ইনফ্রারেড (অবলােহিত) রশ্মিই প্রধানত তাপের অনুভূতি সৃষ্টি করে। সূর্য থেকে আগত ইনফ্রারেড রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম হওয়ায় বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত বিভিন্ন গ্যাসীয় অণুরা একে শােষণ করতে পারে না। ফলে এই রশ্মি সরাসরি ভূপৃষ্ঠে আপতিত হয়ে ভূপৃষ্ঠ ও সংলগ্ন বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত করে। ভূপৃষ্ঠ থেকে বিকিরিত ইনফ্রারেড রশ্মি দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যবিশিষ্ট হওয়ায় বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত বিভিন্ন গ্যাসীয় পদার্থ (CO2, CH4, N2O, জলীয় বাষ্প, CFC ইত্যাদি) এই রশ্মির কিছু অংশকে শােষণ করে এবং বাকি অংশকে পৃথিবীপৃষ্ঠে প্রতিফলিত করে ভূপৃষ্ঠ ও তৎসংলগ্ন বায়ুমণ্ডলকে উত্তপ্ত রাখে। একেই গ্রিনহাউস প্রভাব (গ্রিনহাউস এফেক্ট) বলে।
32. অশ্ব অক্ষাংশ কাকে বলে?
⦿অশ্ব অক্ষাংশ : উত্তর গোলার্ধে কর্কটীয় উচ্চচাপ বলয় ও দক্ষিণ গোলার্ধে মকরীয় উচ্চচাপ বলয় বরাবর শীতল ও ভারী বায়ু উপর থেকে নীচে নেমে আসায় ভূপৃষ্ঠ ও সমুদ্রপৃষ্ঠের সমান্তরালে কোনোপ্রকার বায়ুপ্রবাহ দেখা যায় না। ফলে এই দুই বলয়ে শান্ত অবস্থা বিরাজ করে। দুই গোলার্ধের এই নির্দিষ্ট আঞ্চলিক অবস্থানদ্বয়কে অশ্ব অক্ষাংশ (Horse Latitude) বলা হয়।

⦿নামকরণ : ষোড়শ শতকে পালতোলা জাহাজগুলি উভয় গোলার্ধের এই শান্ত বলয়ে এসে উপস্থিত হলে পর্যাপ্ত বায়ুপ্রবাহের অভাবে গতিহীন হয়ে পড়তো। ফলে জাহাজগুলির সমুদ্রযাত্রার সময়সীমা আশাতীতভাবে দীর্ঘায়িত হয়ে পড়তো। এমতাবস্থায়, আমেরিকা উপনিবেশে সরবরাহের উদ্দেশ্যে ইউরোপ ও মধ্য প্রাচ্য থেকে আসা বাণিজ্যিক ঘোড়াভর্তি জাহাজগুলি এই শান্ত বলয়ে এসে পৌছালে মাঝ সমুদ্রে তাদের অনেকদিন অপেক্ষা করতে হতো। এই পরিস্থিতিতে বিলম্বিত সমুদ্রযাত্রাকালীন খাদ্য ও পানীয় জলের সংকট কমাতে এবং জাহাজগুলিকে পূর্বাপেক্ষা হালকা করার জন্য জাহাজগুলি থেকে কিছু ঘোড়া সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হতো; এইরকম অসংখ্য দুর্ঘটনার কারণে এই নির্দিষ্ট আঞ্চলিক অবস্থানদ্বয়ের অশ্ব অক্ষাংশ (Horse Latitude) নামকরণ করা হয়েছে।

33. জলচক্র কাকে বলে?
⦿সংজ্ঞা : সূর্যতাপে বিভিন্ন জলাশয় থেকে জল ক্রমাগত বাষ্পীভূত হয়ে ওপরে উঠে মেঘরূপে ভেসে বেড়ায় এবং তারপর মেঘের মধ্যে ভাসমান জলকণাসমূহ ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টি বা তুষাররূপে পৃথিবীতে নেমে আসে। শেষে ওই বৃষ্টি বা তুষারগলা জলের বেশিরভাগ অংশ নদনদীর মাধ্যমে সমুদ্রে ফিরে যায় এবং সেখান থেকে সূর্যতাপে বাষ্পীভূত হয়ে আবার ওপরে উঠে যায়। এইভাবে জল কখনও বাপ, কখনও মেঘ, কখনও অধঃক্ষেপণরূপে আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যে অবিরামভাবে আবর্তিত হয়ে যে চক্র সৃষ্টি করে, তাকেই বলে জলচক্র। এর মধ্যে নদী হল ভূপৃষ্ঠে এই জলচক্রের অনুভূমিক অংশ এবং বাষ্পীভবন (নীচ থেকে ওপরে ওঠে) ও অধঃক্ষেপণ (ওপর থেকে নীচে নামে) হল জলচক্রের উল্লম্ব অংশ।
34. গর্জনশীল চল্লিশা কাকে বলে?
⦿গর্জনশীল চল্লিশা : ৪০° দক্ষিণ অক্ষরেখায় প্রবলবেগে প্রবাহিত পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল হয়ে জলঘূর্ণি ও গর্জনসহকারে উৎক্ষিপ্ত হয় বলে ঐ নির্দিষ্ট আঞ্চলিক অবস্থান বরাবর একে গর্জনশীল চল্লিশা (Roaring Forties) বলে।

⦿ অবস্থান ➺ দক্ষিণ গোলার্ধে ভারত মহাসাগর, আটলান্টিক মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরে ৪০° দক্ষিণ অক্ষরেখা বরাবর প্রবাহিত হয়ে থাকে।
35. ডোলড্রাম বা ITCZ কী?
⦿ডোলড্রাম : নিরক্ষীয় অঞ্চলে 5° উত্তর থেকে 5° দক্ষিণ অক্ষাংশে সারা বছর লম্ব সৌরকিরণের জন্য বায়ু উষ্ণ, বায়ু প্রসারিত ও হালকা হয়ে উপরে উঠে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। এই নিম্নচাপ শূন্যতা পূরণ করার জন্য উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ু ও দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু নিকবটবর্তী হয়। এখানে বায়ুর কোনো অনুভূমিক প্রবাহ থাকে না। একে বলে ডোলড্রাম বা ITCZ।

36. ঘূর্ণবাত কাকে বলে?
⦿ঘূর্ণবাত : কোন স্বল্প পরিসর স্থানে আকস্মিকভাবে উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে বায়ুর চাপ কমে গেলে সেখানে গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের সৃষ্টি হয়। এই নিম্নচাপ কেন্দ্রের শূন্যস্থান পূরণ করার জন্য আশপাশের উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে বাতাস প্রবল বেগে ঘূর্ণীর আকারে ঐ নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে ছুটে আসে এবং উষ্ণ হয়ে পুনরায় ওপরে উঠে যায়। এরূপ নিম্নচাপকেন্দ্রমুখী ঘূর্ণী বাতাসকে ঘূর্ণবাত বলে।

37. ফেরেলের সূত্র কাকে বলে?
⦿প্রবক্তা : আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত আবহবিদ উইলিয়াম ফেরেল (William Ferral) ১৮৫৯ খ্রীষ্টাব্দে এই সূত্রটির উদ্ভাবন করেন এবং তাঁর নামানুসারেই এটি ফেরেলের সূত্র (Ferral’s Law) নামে পরিচিত।

⦿সূত্র : কোরিওলিস বলের প্রভাবে বায়ুপ্রবাহ উচ্চচাপ থেকে নিম্নচাপের দিকে সোজাপথে প্রবাহিত না হয়ে উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে বেঁকে প্রবাহিত হয়।
⦿প্রমাণ : ফেরেলের সূত্র অনুসারে আয়ন বায়ু সোজাভাবে প্রবাহিত না হয়ে উত্তর গোলার্ধে ডানদিকে উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ুরূপে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে বামদিকে দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ুরূপে বেঁকে প্রবাহিত হয়।
38. আয়নবায়ুকে বাণিজ্য বায়ু বলে কেন?

⦿উত্তর : আয়ন বায়ু একপ্রকার নিয়ত বায়ু, যা নিরক্ষরেখার উভয় পাশে 5°-10° অক্ষাংশের মধ্যে কর্কটীয় ও মকরীয় উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে অবিরাম প্রবাহিত হয়ে থাকে। আয়ন বায়ু উত্তর গোলার্ধে উত্তর – পূর্ব দিক থেকে উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ু নামে এবং দক্ষিণ গোলার্ধে দক্ষিণ – পূর্ব দিক থেকে দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু নামে প্রবাহিত হয়। এই আয়ন বায়ুর গতি যেমন নির্দিষ্ট, তেমনি তার গতিবেগও খুব নিয়মিত। তাই আগেকার দিনে যখন পালতোলা জাহাজে করে বাণিজ্য হতো তখন বাণিজ্য জাহাজ গুলো জ্বালানি খরচ বাঁচাতে এই আয়ন বায়ুর গতিপথ অনুসরণ করতো। এই বায়ু প্রবাহের সাহায্যে পালতোলা জাহাজ চালাতে সুবিধা হত বলে আয়ন বায়ুকে বাণিজ্য বায়ু বলে।
39. প্রতীপ ঘূর্ণবাত কাকে বলে?

⦿প্রতীপ ঘূর্ণবাত : হিমমন্ডল এবং নাতিশীতোয়মণ্ডলের অন্তর্গত কোনো স্বল্প পরিসর স্থানের বায়ুশীতল হয়ে উচ্চচাপ কেন্দ্র গঠিত হলে, সেখান থেকে বায়ু নিম্নগামী ও বহির্মুখী হয়ে ঘুরতে ঘুরতে চারপাশে বেরিয়ে যায়, একে প্রতীপ ঘূর্ণবাত বলে।

40. ওজোন গহ্বর কী?

⦿ওজোন গহ্বর : মানুষের কিছু ক্রিয়াকলাপের ফলে প্রাকৃতিকভাবে ওজোন তৈরির হার অপেক্ষা বিয়ােজনের হার অত্যধিক বেড়ে যাচ্ছে। বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের অন্তর্গত ওজোন স্তরটি প্রায় সর্বত্র এইভাবে কম-বেশি পাতলা হয়ে যাচ্ছে। ওজোন স্তরের এই পাতলা হওয়ার ঘটনাকে ওজোন স্তরের ক্ষয় বা ওজোন ছিদ্র অথবা ওজোন গহুর (Ozone hole) বলে।

মানুষের নানাবিধ ক্রিয়াকলাপের ফলে পরিবেশে মুক্ত হওয়া ক্লোরােফ্লুরােকার্বন (CFC) বা ফ্রেয়ন জাতীয় রাসায়নিক পদার্থসমূহ, নাইট্রিক অক্সাইড (NO), নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড (NO2) ইত্যাদি গ্যাসগুলি ওজোন গহ্বর সৃষ্টির জন্য দায়ী।

ওজোনস্তর ধ্বংসের ফলাফল লেখো।

⦿ ওজোনস্তর ধ্বংসের ফলাফল : বর্তমানে বায়ুমণ্ডলে CFC, হ্যালন, নাইট্রোজেন অক্সাইড, সালফেট কণা প্রভৃতির বৃদ্ধির জন্য ওজোনস্তর ক্রমেই ধ্বংস হচ্ছে। এর ক্ষতিকর ফলাফলগুলি হল –

১. বিশ্ব উষ্ণায়ন : ওজোনস্তর ধ্বংসের জন্যই ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি পৃথিবীতে এসে পড়ে এবং তাই পৃথিবীর উয়তা ক্রমশ বেড়ে চলেছে। বিশ্ব উষ্ণায়নের অন্যতম কারণ ওজোনস্তরের বিনাশ।

২. বিভিন্ন রােগের সৃষ্টি : অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে মানুষের চামড়ায় ক্যানসার সৃষ্টি হচ্ছে, মানুষের প্রজননক্ষমতা কমে যাচ্ছে এবং মানুষের চোখের কর্নিয়ায় নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

৩. বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বিনষ্ট : ওজোনস্তর ধ্বংসে বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বিঘ্নিত হচ্ছে, উদ্ভিদের উৎপাদনশীলতা কমে যাচ্ছে এবং অতি ক্ষুদ্র প্রাণীদের মৃত্যু ঘটছে।
3. বৈপরীত্য উত্তাপ কী?

⦿ধারণা : বায়ুমণ্ডলের নিম্নস্তরে অর্থাৎ ট্রপােস্ফিয়ারে ভগঞ্জ থেকে ক্রমশ ওপরের দিকে অর্থাৎ উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে তাপমাত্রা হাস। পায় (প্রতি 1000 মিটার উচ্চতায় প্রায় 6.4°সে হারে)। তাপমাত্রার এই হ্রাসকে তাপমাত্রার স্বাভাবিক হ্রাসের হার (normal lapse rate of temperature) বলা হয়।

⦿কারণ : সাধারণত পার্বত্য উপত্যকার শান্ত মেঘমুক্ত রাতে পর্বতের। ওপর অংশের বায়ু দ্রুত তাপ বিকিরণ করে খুব ঠান্ডা ও ভারী হয় এবং মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে পর্বতের ঢাল বাবর নীচের উপত্যকায় নেমে আসে। (এই বায়ুকে বলা হয় ক্যাটাবেটিক বায়ু)। অন্যদিকে, সারাদিন ধরে উষ্ণ হওয়া পর্বত পাদদেশের বায়ু হালকা হয়ে উপত্যকার ঢাল বেয়ে ঊধ্বগামী হয়। (এই বায়ুকে বলা হয় অ্যানাবেটিক বায়ু)। ফলে, উপত্যকার নীচু অংশের উত্তাপ পর্বতের ওপর অংশের তুলনায় অনেক কম হয়। একে বলা হয় বৈপরীত্য উত্তাপ।

4. ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতের বৈশিষ্ট্য লেখো।

⦿ বৈশিষ্ট্য ➺ ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতের বৈশিষ্ট্যগুলি হল —
1. ঘূর্ণবাতের চক্ষু : ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে যেখানে বায়ুর চাপ সবচেয়ে কম থাকে, সেই অংশটিকে বলে ঘূর্ণবাতের চক্ষু।

2. আবহাওয়া : ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে প্রধানত পরিষ্কার আকাশ থাকে এবং শান্ত আবহাওয়া বিরাজ করে। কিন্তু কেন্দ্রের চারপাশে তুমুল ঝড়-বৃষ্টি হয়।

3. মেঘের উপস্থিতি : ঘূর্ণবাত কেন্দ্রের চারপাশে সাধারণত ঘন কিউমুলােনিম্বাস মেঘ থাকে।

4. উর্ধ্বমুখী বায়ু : চারপাশের উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা বায়ু নিম্নচাপের দিকে প্রবলবেগে ছুটে যায় এবং ঘুরতে ঘুরতে নিম্নচাপের কেন্দ্রে প্রবেশের চেষ্টা করে। তবে কেন্দ্রে প্রবেশেরআগেই ওই বায়ু ঊর্ধ্বগামী হয়।

5. বায়ুপ্রবাহের দিক : নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে বায়ু ছুটে আসার সময়। উত্তর গােলার্ধে ঘড়ির কাঁটার গতির বিপরীত দিকে বা বামাবর্তে এবং দক্ষিণ গােলার্ধে ঘড়ির কাঁটার গতির দিকে বা দক্ষিণাবর্তে বেঁকে বায়ু প্রবাহিত হয়।


প্রশ্নের মান – ৫
1. বায়ুমণ্ডলে উষ্ণতার তারতম্যের কারণগুলি ব্যাখ্যা করো।***

বায়ুমণ্ডলে উষ্ণতার তারতম্যের কারণ : বায়ুমণ্ডলে উষ্ণতার তারতম্যের কারণ ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন অংশে বায়ুর উষ্ণতায় অনেক পার্থক্য দেখা যায়। বায়ুর উষ্ণতার এই তারতম্যের নিয়ন্ত্রকগুলি হল —

1. অক্ষাংশ : অক্ষাংশ অনুসারে ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন অংশে সূর্যরশ্মির পতনকোণের তারতম্য ঘটে, ফলে উষ্ণতারও পার্থক্য হয়। নিরক্ষরেখা থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে সূর্যরশ্মি ক্রমশ তির্যকভাবে পড়ে। লম্বভাবে পতিত সূর্যরশ্মির তুলনায় তির্যকভাবে পতিত সূর্যরশ্মিতে উত্তাপের পরিমাণ কম হয়। এর কারণগুলি হল — a) ঐতিক রশ্মিকে বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে তুলনামূলকভাবে অধিক দুরত্ব অতিক্রম করতে হয় এবং b) তির্যক রশ্মি ভূপৃষ্ঠে বেশি জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। সুতরাং, নিরক্ষরেখা থেকে উত্তর ও দক্ষিণে তাপমাত্রাও ক্রমশ কমতে থাকে।

উদাহরণ : 34°05’ উত্তর অক্ষাংশে অবস্থিত শ্রীনগরের তুলনায় নিরক্ষরেখার নিকটবর্তী তিরুবনন্তপুরম (৪°31’ উ: অক্ষাংশ) অনেক বেশি উষ্ণ। আর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে অক্ষাংশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে বলেই অক্ষাংশের ভিত্তিতে। ভূপৃষ্ঠে তিনটি প্রধান তাপমণ্ডলের সৃষ্টি হয়েছে।

2. উচ্চতা : সাধারণভাবে দেখা যায় প্রতি 1000 মিটার উচ্চতায় প্রায়। 6.4°সে হারে তাপমাত্রা হ্রাস পায়। তাই একই অক্ষাংশে অবস্থিত হলেও সমতল স্থানের তুলনায় উঁচু স্থানের তাপমাত্রা কম হয়।

উদাহরণ : উগান্ডার রাজধানী কাম্পালা (0°20′ উত্তর, উচ্চতা 1190 মি) এবং ইকুয়েডরের রাজধানী কুইটো (0°11′ দক্ষিণ, উচ্চতা 2850 মি) মােটামুটি একই অক্ষাংশে অবস্থিত হলেও উচ্চতার পার্থক্যের জন্য কাম্পালার (গড় বার্ষিক তাপমাত্রা 19°সে) তুলনায় কুইটোর তাপমাত্রা (গড়ে 8.5 °সে) অনেক কম।

3. স্থলভাগ ও জলভাগের বন্টন : জলভাগের তুলনায় স্থলভাগ দিনের বেলা তাড়াতাড়ি গরম হয় এবং রাতে তাড়াতাড়ি ঠান্ডা হয়। একইভাবে গ্রীষ্মকালে স্থলভাগ যতটা উষ্ণ হয় পার্শ্ববর্তী জলভাগ ততটা হয় না বা শীতকালে স্থলভাগ যতটা শীতল হয় সংলগ্ন জলভাগ ততটা শীতল হয় না। এজন্য সমুদ্র থেকে দূরে মহাদেশের অভ্যন্তরে জলবায়ু চরম বা মহাদেশীয় প্রকৃতির হয়। কিন্তু সমুদ্রসংলগ্ন স্থানে সামুদ্রিক প্রভাবের জন্য উষ্ণতা কখনােই খুব বেশি বা কম হয় না। জলবায়ু সমভাবাপন্ন হয়

উদাহরণ : সমুদ্র থেকে দূরে দেশের অভ্যন্তরে অবস্থিত বলে দিল্লির জলবায়ু চরম বা মহাদেশীয় প্রকৃতির। আবার, সামুদ্রিক প্রভাবের জন্য মুম্বাইয়ের জলবায়ু সমভাবাপন্ন।

4. ভূমির ঢাল : ভূমির যে ঢালের ওপর সূর্যালােক বেশি খাড়াভাবে পড়ে সেই ঢালে উষ্ণতা অপেক্ষাকৃত বেশি হয়। এর বিপরীত ঢালে সূর্যালােক তির্যকভাবে পড়ে ও উষ্ণতা তুলনামূলকভাবে কম হয়।

উদাহরণ : উত্তর গােলার্ধে হিমালয়, আল্পস প্রভৃতি পর্বতশ্রেণির উত্তর ঢালের তুলনায়। দক্ষিণ ঢালের তাপমাত্রা বেশি। আবার দৃক্ষিণ গােলার্ধের পর্বতশ্রেণিসমূহের উত্তর ঢাল দক্ষিণ ঢালের তুলনায় বেশি উষ্ণ।

5. বায়ুপ্রবাহ : বায়ুপ্রবাহ তাপ বহন করে। তাই কোনাে অলের। ওপর দিয়ে উষ্ণ বায়ু প্রবাহিত হলে সেখানকার তাপমাত্রা বাড়ে এবং শীতল বায়ুপ্রবাহে তাপমাত্রা কমে।

উদাহরণ : শীতকালে সুমেরর। ঠান্ডা বাতাস উত্তর আমেরিকা মহাদেশের অভ্যন্তরে বহুদূর পর্যন্ত চলে আসে। এজন্য আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যভাগে শীতকালে তীর। শীত পড়ে এবং তুষারপাত হয়। আবার উম্ন চিনুক বায়ুর প্রভাবে ওই দেশটিরই প্রেইরি অঞলে শীতকালে বরফ গলে যায়।

6. মেঘাচ্ছন্নতা ও অধঃক্ষেপণ : আকাশে ঘন মেঘের আবরণ একদিকে যেমন দিনের বেলা সৌরশক্তিকে ভূপৃষ্ঠে পৌঁছােতে বাধা দেয়, অপরদিকে রাত্রি বেলা ভূপৃষ্ঠ থেকে বিকীর্ণ তাপকেও মহাশনে পোঁছােতে দেয় না। ফলে মেঘের আবরণ থাকলে দিনের বেলা উত্তাপ কমে, আর রাত্রিবেলা উত্তাপ বাড়ে। এই কারণে মেঘশন রাত্রির তুলনায় মেঘাচ্ছন্ন রাত্রি অনেক গরম হয়।

বৃষ্টিপাত, শিলাবৃষ্টি। তুষারপাত প্রভৃতি বিভিন্ন প্রকার অধঃক্ষেপণে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা হাস। পায়। এজন্য বৃষ্টিহীন রাজস্থান মরু অঞলের তুলনায় বৃষ্টিপাত অধ্যুষিত চেরাপুঞ্জির তাপমাত্রা অনেক কম। আবার, বৃষ্টিপাতের তুলনায় শিলাবৃষ্টি এবং শিলাবৃষ্টির তুলনায় তুষারপাতে তাপমাত্রা হ্রাস পায়।

2. বায়ুর উষ্ণতার সঙ্গে চাপের সম্পর্ক লেখো।

বায়ুর উষ্ণতার সঙ্গে চাপের সম্পর্ক : বায়ুর উষ্ণতা ও বায়ুর চাপের সম্পর্ক বায়ুর উষ্ণতা ও বায়ুর চাপ উভয়ই আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদান হলেও উভয়ের মধ্যে এক বিপরীত সম্পর্ক লক্ষ করা যায়। সেগুলি হল –

1. বায়ুর উষ্ণতা বৃদ্ধির ফল : বায়ু যখন উষ্ণ হয় তখন তার আয়তন বাড়ে বা প্রসারিত হয়। বায়ু যখন প্রসারিত হয় তখন তার ঘনত্ব হ্রাস পায়, ফলে চাপও কমে। সুতরাং, বায়ু উষ্ণ হলে তার চাপ কমে। যেমন — নিরক্ষীয় অঞলে সারাবছরই সূর্য লম্বভাবে কিরণ দেয় বলে অঞ্চলটিতে সর্বদাই বায়ুর উষ্ণতা বেশি থাকে। এজন্য এখানকার বায়ু প্রসারিত ও হালকা হয়ে ঊধ্বগামী হয়। এর ফলে নিরক্ষীয় অঞ্চলের | বায়ুমণ্ডলে স্থায়ীভাবে নিম্নচাপ বিরাজ করে, যাকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয় বলা হয়।

2. বায়ুর উষ্ণতা হ্রাসের ফল : বায়ুর উষ্ণতা কমলে বায়ু সংকুচিত হয়। বায়ু যতই সংকুচিত হয়, ততই তার ঘনত্ব বাড়ে, ফলে চাপও বৃদ্ধি পায়। সুতরাং, বায়ুর উষ্ণতা কমলে বায়ুর চাপ বাড়ে। যেমন—সুমেরু ও কুমেরু অঞ্চলে সূর্যরশ্মি অত্যন্ত তির্যকভাবে পড়ে বলে এখানে বায়ু অত্যন্ত শীতল ও সংকুচিত অবস্থায় থাকে। ফলে সুমেরু ও কুমেরু অঞলে বায়ুর ঘনত্ব ও চাপ খুবই বেশি হয় এবং এই অঞল দুটিতে স্থায়ী উচ্চচাপ বলয়ের সৃষ্টি হয়েছে। একে মেরুদেশীয় উচ্চচাপ বলয় বলা হয়।

3. বায়ুর জলীয় বাষ্প ধারণ ক্ষমতা ও তার ফল : বায়ু উষ্ণ হলে তার জলীয় বাষ্প ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পায় জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু শুষ্ক। বায়ুর তুলনায় হালকা বলে বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে গেলে বায়ুর চাপ কমে যায়। যেমন বায়ুতে প্রচুর পরিমাণে জলীয়। বাষ্প থাকে বলে বর্ষাকালে বায়ুর চাপও কম হয়। অর্থাৎ বায়ুর উষ্ণতা ও বায়ুর চাপের সম্পর্ক ব্যস্তানুপাতিক।
3. বায়ুচাপের তারতম্যের কারণগুলি কী কী?

বায়ুমণ্ডলে বায়ুর চাপের তারতম্যের কারণ : বায়ুমণ্ডলে বায়ুর চাপের তারতম্য যে কারণগুলির জন্য ঘটে, সেগুলি হল —

1. উষ্ণতার প্রভাব :
i. উষ্ণতা বৃদ্ধি ও বায়ুর চাপ : বায়ু উষ্ণ হলে প্রসারিত হয়। ফলে তার ঘনত্ব কমে যায় অর্থাৎ চাপ হাস পায়। এই কারণে নিরক্ষীয় অঞ্চলে বায়ুর চাপ কম হয়।

ii. উষ্ণতা হ্রাস ও বায়ুর চাপ : উষ্ণতা কমলে বায়ু সংকুচিত হয়, ফলে তার ঘনত্ব বাস সুতরাং, চাপও বৃদ্ধি পায়। উভয় মেরু অঞ্চলে অতিরিক্ত ঠান্ডার বায়ুর চাপ বেশি হয়।

2. বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ : জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায় বায়ুর তুলনায় হালকা হয় বলে এর চাপও কম হয়। এজন্য যে অঞলের বায়ুতে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকে সেখানে বাহন চাপ কম হয়।

3. উচ্চতার প্রভাব : সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ওপরের দিকে উঠলে বায়ুস্তরের গভীরতা বা বায়ুমণ্ডলীয় ভর ক্রমশ কমে যায় এবং এর ফলে বায়ুর চাপও হ্রাস পায়। এজন্য দুটি ভিন্ন উচ্চতায় অবস্থিত স্থানের মধ্যে যেটির উচ্চতা বেশি সেখানে বায়ুর চাপও অপেক্ষাকৃত কম হয়। যেমন—অসমের শিবসাগর ও পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং প্রায় একই অক্ষাংশে অবস্থিত হলেও বেশি উচ্চতার জন্য দার্জিলিঙে বায়ুর চাপ শিবসাগরের তুলনায় অনেক কম থাকে।

4. পৃথিবীর আবর্তন গতির প্রভাব : পৃথিবীর আবর্তন গতির জন্যও বায়ুচাপের তারতম্য হয়। যেমন — পৃথিবীর আবর্তনের গতিবেগ দুই মেরুর তুলনায় মেরুবৃত্তপ্রদেশে বেশি বলে মেরুবৃত্তপ্রদেশের বায়ু বেশি পরিমাণে বিক্ষিপ্ত হয়। এর ফলে বায়ুর ঘনত্ব কমে গিয়ে। মেরুবৃত্তপ্রদেশে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়েছে।

5. স্থলভাগ ও জলভাগের বণ্টন : স্থলভাগ ও জলভাগের বিপরীতধর্মী চরিত্রের প্রভাবেও বায়ুর চাপের তারতম্য হয়। দিনের বেলা জলভাগ অপেক্ষা স্থলভাগ তাড়াতাড়ি উত্তপ্ত হয়। এর ফলে ভূপৃষ্ঠের বায়ু উত্তপ্ত ও হালকা হয়ে ওপরে উঠে যায় ও নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। আবার রাতেরবেলায় স্থলভাগ দ্রুত তাপ বিকিরণ করে। শীতল হয়ে পড়ে এবং উচ্চচাপের সৃষ্টি হয়। এইভাবে স্থলভাগ ও জলভাগের বণ্টনের জন্য চাপের তারতম্য ঘটে।

4. বায়ুমণ্ডলের স্তরবিন্যাসের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।

বায়ুমণ্ডলের স্তরবিন্যাস : বায়ুমণ্ডলের স্তরবিন্যাস তাপমাত্রার তারতম্য অনুসারে বায়ুমণ্ডলকে ছয়টি স্তরে ভাগ করা যায়, যেমন —

1. ট্রপােস্ফিয়ার বা ক্ষুন্ধমণ্ডল ➺
⦿ অবস্থান ➺ বায়ুমণ্ডলের একেবারে নীচের সর্বাধিক ঘনত্বযুক্ত স্তরটির নাম ট্রপােস্ফিয়ার বা ক্ষুদ্ধমণ্ডল। ইংরেজি ‘ট্রপােস্ফিয়ার’ শব্দটি গ্রিক শব্দ ‘ট্রপাে’ (যার অর্থ পরিবর্তন’ বা ‘অশান্ত’) এবং ‘স্ফিয়ার’ (যার অর্থ অঞ্চল) থেকে উদ্ভূত।

⦿ বিস্তার ➺ নিরক্ষীয় অঞ্চলে ভূপৃষ্ঠ থেকে 16-18 কিমি ও মেরু অঞ্চলে 8-9 কিমি (গড় উচ্চতা 12 কিমি) উচ্চতা এই স্তর পর্যন্ত বিস্তৃত।

⦿ বৈশিষ্ট্য ➺
1. উষ্ণতা : এই স্তরে প্রতি 1000 মিটার উচ্চতায় বায়ুর উয়তা 6.4°সে হারে কমতে থাকে।
2. ভর : বায়ুমণ্ডলের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ এই স্তরে বায়ুমণ্ডলের মােট ভরের তিন-চতুর্থাংশ পাওয়া যায়।

3. আবহাওয়ার গােলযােগ : বায়ুমণ্ডলের এই স্তরে বিভিন্ন। গ্যাসীয় উপাদান, জলীয় বাষ্প, ধূলিকণা ও লবণের কণা থাকে। মেঘের সৃষ্টি ও বায়ুপ্রবাহ প্রধানত এই স্তরেই দেখা যায়। ঘূর্ণবাত, টর্নেডাে, বৃষ্টিপাত, বজ্রপাত প্রভৃতি ঘটনা ট্রপােস্ফিয়ারেই কেবল ঘটে। তাই ট্রপােস্ফিয়ারকে ক্ষুদ্ধমণ্ডল বলা হয়।

4. ট্রলােপজ : ট্রপােস্ফিয়ারের ঊর্ধ্বসীমাকে বলে ট্রলােপজ। এখানে উন্নতা কমেও না বা বাড়ে না অর্থাৎ প্রায় ধ্রুবক থাকে।

2. স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার বা শান্তমণ্ডল ➺
⦿ অবস্থান ➺ ট্রপােস্ফিয়ারের ঠিক উর্ধ্বে বায়ুমণ্ডলের দ্বিতীয় স্তরটির নাম স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার বা শান্তমণ্ডল। ইংরেজি স্ট্রাটোস্ফিয়ার’ শব্দটি গ্রিক স্ট্র্যাটো’ (যার অর্থ শান্ত’ অথবা ‘স্থির’) এবং “স্ফিয়ার’ (যার অর্থ ‘অঞ্চল’) থেকে উদ্ভূত।

⦿ বিস্তার : ট্রপােস্ফিয়ারের ওপর 12 থেকে 50 কিমি উচ্চতা পর্যন্ত এই স্তর বিস্তৃত।
⦿ বৈশিষ্ট্য ➺
1. ওজোনােস্ফিয়ার : স্ট্রাটোস্ফিয়ারের 24-40 কিমি। উচ্চতার মধ্যে ওজোন গ্যাসের ঘনত্ব খুব বেশি থাকে। এই কারণে এই অংশের নাম ওজোননাস্ফিয়ার।

এই স্তর সূর্য থেকে আগত অতিবেগুনি রশ্মি শােষণ করে জীবজগতকে ক্ষতিকর রশ্মির হাত থেকে রক্ষা করে।
2. মুক্তা মেঘ : স্ট্রাটোস্ফিয়ারে মেঘ ও বায়ুপ্রবাহ বিশেষ থাকে না। তবে মেরু অঞলে নিম্ন স্ট্রাটোস্ফিয়ারে বরফের কেলাস দিয়ে গঠিত মুক্তা মেঘ নামে একপ্রকার মেঘ দেখা যায়।
3. বিমান চলাচল : স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে বায়ুপ্রবাহ না থাকায়। ঘর্ষণজনিত বাধাও খুব কম। এজন্য এই স্তর দিয়ে জেট বিমান। চলাচল করে।
4. স্ট্রাটোপজ : স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের ঊর্ধ্বসীমার নাম স্ট্রাটোপজ।

3. মেসােস্ফিয়ার বা মধ্যমণ্ডল ➺
⦿ অবস্থান ➺ বায়ুমণ্ডলের তৃতীয় স্তর বা স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের ঠিক ঊর্ধের স্তরটির নাম মেসােস্ফিয়ার বা মধ্যমণ্ডল। ইংরেজি ‘মেসােস্ফিয়ার’ শব্দটি গ্রিক শব্দ ‘মেসাে’ (যার অর্থ ‘মধ্যম) এবং ‘স্ফিয়ার’ (যার অর্থ ‘অঞ্চল’ বা ‘মণ্ডল’) থেকে উদ্ভূত।

⦿ বিস্তার : স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের ওপর 50-80 কিমি উচ্চতা পর্যন্ত এই স্তর বিস্তৃত।
⦿ বৈশিষ্ট্য ➺
1. উষ্ণতা : এই স্তর থেকে উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বায়ুর উয়তা ক্রমশ কমতে থাকে এবং 80 কিমি উচ্চতায় উষ্ণতা কমে হয়। প্রায় –93 °সে।
2. উল্কাপিন্ডের বিনাশ : মহাকাশ থেকে পৃথিবীর। দিকে আগত উল্কা এই স্তরে এসে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
3. মেসোপজ : মেসােস্ফিয়ারের ঊধ্বসীমাকে বলা হয় মেসােপজ।

4. আয়নােস্ফিয়ার ও থার্মোস্ফিয়ার ➺
⦿ অবস্থান ➺ বায়ুমণ্ডলের তৃতীয় স্তর বা মেসােস্ফিয়ারের ঠিক ঊর্ধ্বের স্তরটিকে আয়নােস্ফিয়ার বলে। আয়নােস্ফিয়ারের ওপরের অংশটিকে থার্মোস্ফিয়ার বলা হয়। এখানকার গ্যাসীয় কণাগুলি। তড়িৎ-আধানযুক্ত বা আয়নাইজড বলে এই স্তরের নাম আয়নােস্ফিয়ার। আর ইংরেজি ‘থার্মোস্ফিয়ার’ শব্দটি গ্রিক শব্দ ‘থার্মো’ (যার অর্থ ‘তাপ’) এবং ‘স্ফিয়ার’ (যার অর্থ ‘অঞল’ বা মণ্ডল’) থেকে উদ্ভূত।

⦿ বিস্তার : মেসােস্ফিয়ারের ওপর 80-600 কিমি উচ্চতা পর্যন্ত এই স্তর বিস্তৃত।
⦿ বৈশিষ্ট্য ➺
1. তড়িৎগ্রস্ত কণার উপস্থিতি : অসংখ্য ধনাত্মক ও ঋণাত্মক তড়িৎগ্রস্ত কণা বা আয়ন থাকায় এই স্তরটিকে আয়নােস্ফিয়ার বলে।
2. কেনেলি-হেভিসাইড স্তর : আয়নােস্ফিয়ারের মধ্যে 90 থেকে 160 কিমি উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলটির নাম কেনেলি-হেভিসাইড স্তর। এই স্তর স্বল্প দৈর্ঘ্যের বেতার তরঙ্গগুলিকে প্রতিফলিত করে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে রেডিয়াে যােগাযােগ সম্ভব করেছে।

3. মেরুজ্যোতি: এই স্তরেই সুমেরুতে সুমেরুপ্রভা ও কুমেরুতে কুমেরুপ্রভা নামে মেরুজ্যোতির সৃষ্টি হয়।
4. উষ্ণতা : এই স্তরে উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উয়তা অতি দ্রুত হারে বাড়তে থাকে এবং ঊর্ধ্বসীমায় তাপমাত্রা হয় প্রায় 1200 °সে।

5. এক্সোস্ফিয়ার বা বহিঃমণ্ডল ➺
⦿ অবস্থান ➺ বায়ুমণ্ডলের পঞ্চম স্তরটির নাম এক্সোস্ফিয়ার।
⦿ বিস্তার : আয়নােস্ফিয়ারের ওপর 600-1500 কিমি উচ্চতা পর্যন্ত এই স্তর বিস্তৃত।
⦿ বৈশিষ্ট্য ➺
1. বায়বীয় কণার নির্গমণ : এক্সোস্ফিয়ার স্তর থেকে বায়বীয় কণাগুলি ক্রমাগত মহাশূন্যে নির্গত হয়।
2. গঠন : এক্সোস্ফিয়ার অত্যন্ত কম ঘনত্বের হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাস দ্বারা গঠিত।
3. উচ্চতা ও উষ্ণতার সম্পর্ক : এই স্তরেও উচ্চতা বাড়ার সাথে সাথে উষ্ণতা বাড়ে, তবে থার্মোস্ফিয়ারের মতাে অত দ্রুত নয়।
4. উষ্ণতা : এই স্তরের উষ্ণতা প্রায় 1200 °সে থেকে 1600 °সে।

6.ম্যাগনেটোস্ফিয়ার বা চৌম্বকমণ্ডল ➺
⦿ অবস্থান ➺ এক্সোস্ফিয়ারের পরবর্তী স্তর ম্যাগনেটোস্ফিয়ার নামে পরিচিত।
⦿ বিস্তার : এক্সোস্ফিয়ারের ওপর 1500 কিমি থেকে -10000 কিমি বা তারও বেশি অর্থাৎ ঊর্ধ্বসীমা অনির্দিষ্ট।

⦿ বৈশিষ্ট্য ➺
1. স্থায়ী চুম্বকীয় ক্ষেত্র : সৌর বাত্যা (solar wind) থেকে নির্গত ইলেকট্রন ও প্রােটনের প্রভাবে এই স্তরে একটি স্থায়ী চুম্বকীয় ক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়েছে। তাই এই স্তরের নাম। ম্যাগনেটোস্ফিয়ার।
2. ইলেকট্রন ও মুক্ত আয়নগুলির সংঘবদ্ধ অবস্থান : এই স্তরে তড়িৎচুম্বকীয় শক্তির প্রভাবে ইলেকট্রন ও মুক্ত আয়নগুলি সংবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।
3. ভ্যান অ্যালেন বিকিরণ বলয় : এই স্তরেই সৃষ্টি হয়েছে ভ্যান অ্যালেন বিকিরণ বলয়।
4. মহাশূন্যে বিলীন হওয়া : এই স্তরটি ধীরে ধীরে বায়ুশূন্য হয়ে মহাশূন্যে বিলীন হয়ে যায়।
5. বায়ুচাপ বলয়ের সঙ্গে নিয়ত বায়ুর সম্পর্ক লেখো।

পৃথিবীর বায়ুচাপ বলয়গুলির সঙ্গে নিয়ত বায়ুপ্রবাহের সম্পর্ক ও তার কারণ : বায়ুচাপ বলয়ের সঙ্গে নিয়ত বায়ুপ্রবাহের সম্পর্ক খুবই ঘনিষ্ট। কারণ বায়ুচাপ বলয়গুলি আছে বলেই নিয়ত বায়ুপ্রবাহের উৎপত্তি ঘটেছে।

1. বায়ুচাপ বলয়সমূহ : উত্তর ও দক্ষিণ গােলার্ধ মিলে ভূপৃষ্ঠে মােট 7টি বায়ুচাপ বলয় আছে। এগুলি হল —
১. নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়,
২. কর্কটীয় উচ্চচাপ বলয়,
৩. মকরীয় উচ্চচাপ বলয়,
৪. সুমেরুবৃত্তপ্রদেশীয় নিম্নচাপ বলয়,
৫. কুমেরুবৃত্তপ্রদেশীয় নিম্নচাপ বলয়,
৬. সুমেরু দেশীয় উচ্চচাপ বলয় এবং
৭. কুমেরু দেশীয় উচ্চচাপ বলয়।

2. নিয়ত বায়ুপ্রবাহ : ভূপৃষ্ঠের চারটি স্থায়ী উচ্চচাপ বলয় থেকে ৩টি স্থায়ী নিম্নচাপ বলয়ের দিকে সারাবছর ধরে নিয়মিতভাবে নির্দিষ্ট গতিতে যে বায়ু প্রবাহিত হয়, তাকে নিয়ত বায়ু বলে। নিয়ত বায়ু প্রধানত তিনপ্রকার, এগুলি হল —
১. আয়ন বায়ু,
২. পশ্চিমা বায়ু এবং
৩. মেরু বায়ু।
উচ্চচাপ ও নিম্নচাপ বলয়গুলির অবস্থানের বৈশিষ্ট্যানুসারে নিয়ত বায়ুপ্রবাহগুলির উৎপত্তি ও প্রবাহের দিক তথা বায়ুচাপ বলয় ও নিয়ত বায়ুর সম্পর্ক নির্ধারিত হয়েছে।

(১) আয়ন বায়ুর সঙ্গে বায়ুচাপ বলয়ের সম্পর্ক : নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের উত্তরে ও দক্ষিণে দুটি উপক্রান্তীয় (কর্কটীয় ও মকরীয়) উচ্চচাপবলয় থাকার জন্য এই দুই উচ্চচাপবলয় থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে 5° থেকে 25° অক্ষরেখার মধ্যে সারাবছর ধরে আয়ন বায়ু নিয়মিতভাবে নির্দিষ্ট পথ ধরে প্রবাহিত হয়।

আয়ন বায়ুর প্রকারভেদ :
a. উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ু : উত্তর গােলার্ধের কর্কটীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে বয়ে চলা আয়ন বায়ু পৃথিবীর আবর্তন গতির জন্য ফেরেলের সূত্রানুসারে ডান দিকে বেঁকে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে উত্তর-পূর্ব আয়ন বায়ু নামে প্রবাহিত হয়।

b. দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু : দক্ষিণ গােলার্ধের মকরীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে প্রবাহিত আয়ন বায়ুটি ফেরেলের সূত্রানুসারে বাম দিকে বেঁকে দক্ষিণ-পূর্ব আয়ন বায়ু নামে প্রবাহিত হয়।

২) পশ্চিমা বায়ুর সঙ্গে বায়ুচাপ বলয়ের সম্পর্ক : উভয় গােলার্ধের দুটি উপক্রান্তীয় (কর্কটীয় ও মকরীয়) উচ্চচাপ বলয়ের দু-পাশে দুটি মেরুবৃত্তপ্রদেশীয় নিম্নচাপ বলয় উপস্থিত। এই জন্য দুই উপক্ৰান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে দুই মেরুবৃত্তপ্রদেশীয় নিম্নচাপ। বলয়ের দিকে 35° থেকে 60° অক্ষরেখার মধ্যে সারাবছর ধরে নিয়মিতভাবে নির্দিষ্ট পথে পশ্চিমা বায়ু প্রবাহিত হয়।

7. বিশ্ব উষ্ণয়নের প্রভাবগুলি লেখো।

বিশ্ব উষ্ণয়নের প্রভাব : মানুষের বিভিন্ন প্রকার অবিবেচনাপ্রসূত ক্রিয়াকলাপ, যেমন – অত্যধিক পরিমাণে জীবাশ্ম জ্বালানির দহন, নির্বিচারে বৃক্ষচ্ছেদন ও অরণ্যবিনাশ, কৃষিকাজে বিপুল পরিমাণে নাইট্রোজেন-জাতীয় সারের ব্যবহার, ক্রমবর্ধমান শিল্পায়ন ও নগরায়ণ প্রভৃতি বিভিন্ন কারণে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণের মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি ঘটে চলেছে এবং তার ফলস্বরূপ নিম্ন বায়ুমণ্ডলের উয়তা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পৃথিবীর স্বাভাবিক উয়তা অপেক্ষা এরুপ ক্রমবর্ধমান ও অস্বাভাবিক উষ্ণতা বৃদ্ধিকেই বলে বিশ্ব উষ্ণয়ন বা গ্লোবাল ওয়ার্মিং। এর উল্লেখযােগ্য প্রভাবগুলি হল –

1. জলবায়ু পরিবর্তন : পৃথিবীর উষ্ণতা ক্রমশ বেড়ে যাওয়ার জন্য শীতের তুলনায় গ্রীষ্মের তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, প্রায় প্রতিটি ঋতুর আগমন অনিয়মিত ও বিলম্বিত হচ্ছে, ঘূর্ণিঝড়ের সংখ্যা ও তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং খরার প্রাদুর্ভাব বাড়ছে।

2. হিমবাহের মাত্রাতিরিক্ত গলন : ভূমণ্ডলের উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ার জন্য অ্যান্টার্কটিকা ও গ্রিনল্যান্ডের অসংখ্য হিমবাহ ও বিশালাকৃতি বরফের চাদর (Ice Sheet) সহ পৃথিবীর বিভিন্ন পার্বত্য হিমবাহ গলে যাওয়ার জন্য ক্রমশই সংকুচিত হচ্ছে অর্থাৎ এদের আয়তন হ্রাস পাচ্ছে। যেমন — হিমালয়ের গঙ্গোত্রী, যমুনােত্রী প্রভৃতি হিমবাহ।

3. নদনদীতে জলের পরিমাণ হাস : পার্বত্য হিমবাহগুলি ক্রমশ। সংকুচিত হওয়ার ফলে হিমবাহসৃষ্ট নদনদীতে জলের পরিমাণ ক্রমশ কমে আসছে। এর ফলে গঙ্গা, ব্ৰত্মপুত্র, সিন্ধু প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ নদনদী ধীরে ধীরে ক্ষীণকায় হতে থাকবে এবং তার ফলে ভারত, চিন, পাকিস্তান, বাংলাদেশ সহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে।

4. সমুদ্র জলতলের উচ্চতা বৃদ্ধি : মেরু অঞল এবং পার্বত্য অঞলের হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ার জন্য সমুদ্রের জলতলের উচ্চতা বেড়ে যাচ্ছে। বিগত শতাব্দীতে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা 0.9°সে বৃদ্ধির জন্য সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় 10-12 সেমি বেড়ে গেছে। এজন্য সমুদ্র উপকূলের নীচু অংশগুলি জলমগ্ন হওয়ার আশঙ্কা আছে।

5. অধঃক্ষেপণের প্রকৃতি পরিবর্তন : বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বাস্পীভবনের হার ও বায়ুর জলীয় বাষ্প ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি, তুষারপাত ইত্যাদির তীব্রতা বেড়েছে। অধঃক্ষেপণের বণ্টনে যথেষ্ট অস্বাভাবিকতা সৃষ্টি হয়েছে, অর্থাৎ শুষ্ক অঞ্চলগুলিতে বন্যা এবং আর্দ্র অঞ্চলগুলিতে খরা দেখা দিচ্ছে।

× close ad