কোনি Madhyamik Bengali Suggestion 2023

Published On:

কোনি Madhyamik Bengali Suggestion 2023
মাধ্যমিক কোনি সাজেশন ২০২4

কোনি Madhyamik Bengali Suggestion 2024 | মাধ্যমিক কোনি সাজেশন ২০২4 যদি যদি কোন কিছু বাদ পড়ে যায় তাহলে কিন্তু তোমরা অবশ্যই নিচে কমেন্ট করে জানাবে। আমরা এই যে সাজেশন তৈরি করে দিলাম এটা কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ সমস্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য তো অবশ্যই কিন্তু full সাজেশনটা আপনারা কমপ্লিট করে নেবেন কারণ সমস্ত প্রশ্ন মাথায় রেখে এই সাজেশনটা তোমাদের জন্য তৈরি করা হয়েছে নিচে পিডিএফও দেওয়া রয়েছে অবশ্যই তোমরা পিডিএফ তাকে করে নেবে এবং তোমাদের বন্ধু-বান্ধবের সাথে অবশ্যই শেয়ার করে দেবে। Madhyamik Bengali কোনি Suggestion 2023

যদি কারো কোন কিছু জানার থাকে বা বলার থাকে অবশ্যই নিজের কমেন্ট বক্সটিতে ক্লিক করে কমেন্ট করে দেবেন তাহলে আমাদেরও বুঝতে সুবিধা হবে কার কোথায় অসুবিধা রয়েছে বা সুবিধা হচ্ছে। Madhyamik Bengali কোনি Suggestion 2023

আশা করব সম্পূর্ণ সাজেশনটা তোমাদের খুব কাজে আসবে তাই অনেক কষ্ট করে এই সাজেশনটা বানানো হয়েছে।

Madhyamik Bengali কোনি Suggestion 2023 দেবে তাদের জন্য কিন্তু এই অংকে সাজেশনটা তৈরি করা হয়েছে। ২০২৩ এর মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের যদি আরও কোন সাজেশন লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই নিচে কমেন্ট করুন বা আমাদের ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন এবং সার্চ বক্সে আপনি আপনার প্রশ্নটি লিখুন দেখবেন তার উত্তর নিচে আপনারা পেয়ে যাবেন এবং সমস্ত সাবজেক্টের সাজেশন প্রশ্ন উত্তর পাওয়ার জন্য আমাদের ওয়েব পেজটাকে বুক মার্ক করে রাখুন তাতে তোমাদের সুবিধা হবে।

চাইলে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলেও যুক্ত হতে পারো টেলিকম চ্যানেলের লিংক নিচে দেওয়া রয়েছে ধন্যবাদ। Madhyamik Bengali কোনি Suggestion 2023

মাধ্যমিক কোনি  সাজেশসাজেশন ২০২4


1. কোনির পারিবারিক জীবনের পরিচয় দাও। [মাধ্যমিক ২০১৭]

উত্তর : মতি নন্দীর উপন্যাস ‘কোনি’ এক নিতান্ত সাধারণ মেয়ের অভাবনীয় সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে অসাধারণ হয়ে ওঠার কাহিনি। কোনির আসল নাম কনকচাঁপা পাল। সে শ্যামপুকুর বস্তির এক হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান। তাদের বাড়ি বলতে খোলার চালের একটি মাত্র ঘর আর তাতে একটি মাত্র জানলা। জানলার নীচেই পাঁকে ভরা নর্দমা। ঘরে একটি তক্তাপোষ, তাতে তেলচিটচিটে কয়েকটা বালিশ, দেয়ালে টাঙানো দড়িতে কয়েকটা নোংরা জামাপ্যান্ট। পিতৃহীন কোনিরা সাত ভাইবোন। বাবা মারা যাবার পর সেই সংসারের হাল ধরেছে কোনির দাদা কমল। সে একটি মোটর গ্যারেজে কাজ করে দেড়শ টাকা রোজগার করে। কিন্তু সেই সামান্য টাকায় এত বড় সংসারের সবার অন্নসংস্থান হয়ে ওঠে না। তাই ছোট ভাইটিকে পনেরো টাকা মাইনের চায়ের দোকানে কাজ নিতে হয়। কোনির দাদার কথায় জানা যায় তাদের মেজো ভাইটি ট্রেনের ইলেকট্রিক তারে শক খেয়ে মারা যায় আর সেজো ভাই থাকে কাঁচরাপাড়া পিসির বাড়িতে। তাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকা পরিবারটির করুণ অর্থনৈতিক অবস্থার একটা আভাস দিতে পারে। খাবার বলতে কয়েকটা কাঁচা লঙ্কা, কাঁচা পেঁয়াজ, ফ্যান সহযোগে কিছু ভাত। যক্ষাতে কোনির দাদা কমল মারা গেলে কোনিদের অবস্থা আরও সঙ্গীন হয়ে ওঠে এই সময় ক্ষিদ্দার সহযোগিতায় সেই সংসারের হাল ধরে কোনি।

2. ক্ষিদ্দা কীভাবে কোনির জীবনে প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিল সে সম্পর্কে আলােচনা করাে। [মাধ্যমিক ২০১৭]

উত্তর :মতি নন্দীর “কোনি” উপন্যাসে কোনির ‘ক্ষিদ্দা’ ক্ষিতীশ সিংহ এক অনন্য সাধারণ ব্যক্তিত্ব। এক অতিদরিদ্র পরিবারের মেয়ে থেকে ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন সাঁতারু হওয়ার সফরে যে মানুষটি কোনির বন্ধু, দার্শনিক এবং পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেছিলেন, তিনি হলেন এই ক্ষিদ্দা অর্থাৎ ক্ষিতীশ সিংহ।

খেলাধুলার প্রতি কোনির আগ্রহ ছিল ঠিকই কিন্তু তাকে সাঁতার শেখানোর মতো সামর্থ্য ছিলনা তার পরিবারের। ক্ষিতীশই কোনির সাঁতার-প্রতিভার সন্ধান পেয়েছিলেন এবং নিজে থেকেই তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেই অর্থে কোনি হল ক্ষিদ্দারই আবিষ্কার। কোনি যে একজন সাঁতারু এবং তার ‘আসল লজ্জা জলে এবং আসল গর্বও জলে’, একথা ক্ষিদ্দাই কোনিকে শিখিয়েছিলেন।

ক্ষিদ্দা কোনিকে কেবল সাঁতারের প্রশিক্ষণই দেননি, তিনি কোনিকে নানাভাবে উৎসাহিত করেছিলেন। কোনিকে তিনি বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ক্রীড়াবিদদের জীবন সংগ্রামের কাহিনি শোনাতেন। তার মতো দারিদ্র-পীড়িত অতিসাধারণ ঘরের মেয়েরাও যে জীবনে সফল হতে পারে, ক্ষিদ্দাই কোনিকে সেই স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। ক্ষিদ্দার জন্যই কোনির মধ্যে এক অদম্য লড়াকু মানসিকতা তৈরি হয়েছিল।

ক্ষিদ্দা কোনিকে দিয়ে যেমন কঠোর অনুশীলন করিয়েছেন তেমনি বিভিন্ন সময়ে কোনির ভিতরে বারুদ ভরে দিয়েছেন। অমিয়া, হিয়ার প্রতি কোনির যে বিরূপ মনোভাব ছিল, ক্ষিদ্দা সেটাকে আরো উসকে দিতেন। কোনির তেজ তিনি ভোঁতা হতে দেননি, বরং তাতে আরো শান দিয়ে গেছেন। কারণ, তিনি জানতেন এই তেজটাই সাঁতার কাটার সময় কোনিকে ক্ষিপ্র করে তুলবে।

তাই বলা যায়, ক্ষিদ্দার উপযুক্ত প্রশিক্ষণ এবং ‘হার না মানার মন্ত্র’ কোনিকে সাফল্যের শিখরে নিয়ে গিয়েছিল।

3. “জোচ্চুরি করে আমাকে বসিয়ে রেখে এখন ঠেকায় পড়ে এসেছ আমার কাছে”- কোনির এই অভিমানের কারণ কী? এর পরবর্তী ঘটনা সংক্ষেপে বর্ণনা করাে। ২+৩ [মাধ্যমিক ২০১৭]

উত্তর :মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসের প্রধান চরিত্র কোনি অর্থাৎ কনকচাঁপা পাল ক্লাবকর্তাদের ষড়যন্ত্রের শিকার। জাতীয় সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপে যোগদান করার জন্য মাদ্রাজে গিয়েও সে কোনো ইভেন্টে নামতে পায়নি, নানা অজুহাতে তাকে কেবল বসিয়ে রাখা হয়েছিল। শেষপর্যন্ত বাংলার এক প্রতিযোগী অমিয়া অসুস্থ হয়ে পড়লে কোনির ডাক পড়েছিল। এইজন্য কোনির অভিমান হয়েছিল।

মেয়েদের ৪×১০০ মিটার রিলে রেসে নামার জন্য কোনিকে ডাকতে এসেছিল হিয়া। কিন্তু এতোদিন ধরে তাকে বিনা কারণে বসিয়ে রাখা হয়েছে বলে কোনি ক্ষুব্ধ, মর্মাহত। সে কোনোমতেই রিলে রেসে নামতে রাজি হয়না। হিয়া কোনিকে বোঝায় যে বেঙ্গল টিমের জন্যই তাকে প্রয়োজন। কোনির অভিযোগ, হিয়া নিজের সোনার মেডেল নিশ্চিত করার জন্যই তাকে ডাকতে এসেছে। উত্তেজিত হিয়া কোনিকে চড় মারার জন্য হাত তুললে কোনিও তাকে মারতে উদ্যত হয়। কোনির কস্ট্যুম ছিল না, হিয়ার অতিরিক্ত কস্ট্যুমটা পরেই সে প্রস্তুত হয়।

জলে নামার ঠিক আগের মুহূর্তে কোনিকে অবাক করে দিয়ে সেখানে হাজির হন ক্ষিদ্দা। ‘ফাইট, কোনি ফাইট’ ধ্বনিতে গর্জে ওঠেন তিনি। এবার সুইমিংপুলের জলে নিজের সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করার মনোবল ফিরে পেল সে। রমা জোশির থেকে তিন সেকেন্ড পরে জলে নেমেও দুর্বার গতিতে এগিয়ে গিয়ে আগেই বোর্ড স্পর্শ করে কোনি।

4. ‘কোনি’ উপন্যাস অবলম্বনে সাঁতার প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহের চরিত্র সংক্ষেপে আলােচনা করাে। ৫ [মাধ্যমিক ২০১৮]

উত্তর :প্রথিতযশা ঔপন্যাসিক মতি নন্দী রচিত ‘কোনি’ উপন্যাসে ক্ষিতীশ সিংহ শুধুএকটি চরিত্র নয়, তিনি হলেন এক আদর্শ শিক্ষকের দুর্লভ দৃষ্টান্ত। তাঁকে কেন্দ্র করেই গোটা উপন্যাস তথা কোনির আবর্তন এবং উত্তরণ।

ক্ষিতীশ সিংহের চরিত্রটি বিশ্লেষণ করলে আমরা দেখতে পাই –

  1. জহুরি দৃষ্টি :তিনি একজন প্রকৃত শিক্ষক বলেই গঙ্গার ঘাটে পাওয়া হতদরিদ্র মেয়েটির সুপ্ত প্রতিভাকে তিনি চিনে নিতে পেরেছিলেন।
  2. স্পষ্টবাদী :ক্ষিতীশ বড্ড স্পষ্টবাদী। সকলের মুখের উপরই তিনি কড়া সত্যি কথাগুলো অবলীলায় বলে দিতে পারেন।
  3. সৌজন্যবোধ :চিড়িয়াখানায় হিয়ার সঙ্গে কোনি দুর্ব্য দু বহার করলে, শিষ্যের হয়ে তিনি নিজেই হিয়ার কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন।
  4. আদর্শ গুরু :নিষ্ঠাবান একজন গুরু হিসেবে ক্ষিতীশ সমস্ত বঞ্চনা এবং চক্রান্তের চোরাপথ অতিক্রম করে, নিজের শিষ্যকে সাফ্যলের শিখরে পৌঁছে দিয়েছিলেন।
  5. স্নেহশীল :ক্ষিতীশ সিংহ ছিলেন স্নেহশীল শিক্ষক। তিনি কোনিকে সন্তানের নজরে দেখতেন এবং স্নেহ করতেন।
  6. দায়িত্ববোধ :কোনির শিক্ষক হওয়ার দরুন তিনি কোনির খাওয়া-দাওয়া থেকে যাবতীয় খরচ সবকিছুই নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। এমনকি লীলাবতীর দোকানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করে দিয়েছিলেন।
  7. কড়া মেজাজি :বাড়িতে তেল-মশলা খাওয়ার ব্যাপারে ফতোয়া জারি থেকে শুরু করে, ফাঁকিবাজ সাঁতারুদের শাসন—সবক্ষেত্রেই আমরা তার কড়া মনোভাবের পরিচয় পাই।
  8. তীক্ষ্ণ বুদ্ধি :ক্ষিতীশ সিংহ ছিলেন তীক্ষ্ণ বুদ্ধির অধিকারী। তিনি কোনির মানসিক অবস্থা দেখে তাকে খাটানোর জন্য পাউরুটি, কলার লোভ দেখাতেন।
  9. কোনি চরিত্রের পরিপূরক :ক্ষিতীশ ছিলেন কোনির friend philosopher and guide। তারা ছিল একে অপরের পরিপূরক। তাদের এই সম্পর্কের আশ্চর্যরসায়নই কোনিকে সাফল্যের বিজয়মাল্য এনে দিয়েছে।

5. “ওইটেই তাে আমি রে, যন্ত্রণাটাই তাে আমি”- বক্তা কে? উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করাে। ১+8 [মাধ্যমিক ২০১৮]

উত্তর :মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসে কোনির প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহ একথা বলেছেন।

মাদ্রাজে আয়োজিত ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে শেষ মুহূর্তে জলে নামার সুযোগ পেয়েছিল কোনি। সাঁতারু হিসেবে অংশগ্রহণ করেও তাকে নানা অজুহাতে বসিয়ে রাখা হয়েছিল। মেয়েদের রিলে রেসের আগে অমিয়া অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বিনা প্রস্তুতিতে জলে নামতে হয়েছিল। এতোদিন দর্শকাসনে বসে থাকার পর যখন সে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ পেল তখন নিজের সর্ব শক্তি দিয়ে রমা জোশীকে হারিয়ে বাংলার জয় নিশ্চিত করেছিল কোনি। জল থেকে উঠে ক্ষিদ্দাকে নিজের শারীরিক কষ্টের কথা জানালে ক্ষিদ্দা বলেছিলেন, “ওইটেই তাে আমি রে, যন্ত্রণাটাই তাে আমি”।

আসলে, প্রশিক্ষক হিসেবে ক্ষিতীশ সিংহের মূল মন্ত্র ছিল অনুশীলন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে শরীরকে ঘষে ঘষে শানিয়ে তুললে অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়। তিনি কোনির প্রশিক্ষণে এতোটুকু খামতি রাখেন নি। কখনো ভয় দেখিয়ে কখনো বা খাবার লোভ দেখিয়ে তিনি কোনিকে দিয়ে সাধ্যাতীত পরিশ্রম করিয়েছিলেন। তারই ফল কোনি পেয়েছিল মাদ্রাজে ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে। এইজন্য ক্ষিতীশ বলেছিলেন, “যন্ত্রণাটাই তাে আমি”।

6. “আপনি আমার থেকে চার হাজার গুণ বড়ােলােক, কিন্তু চার লক্ষ টাকা খরচ করেও আপনি নিজে শরীরটাকে চাকর বানাতে পারবেন না।”- বক্তা কাকে, কেন একথা বলেছিলেন? ১+৪ [মাধ্যমিক ২০১৯]

উত্তর :মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসে জুপিটার ক্লাবের সাঁতার প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহ গঙ্গার ঘাটে ম্যাসাজ নিতে আসা বিষ্টুচরণ ধরকে এই কথাগুলি বলেছিলেন।

বছর চল্লিশের বিষ্টুচরণ বনেদি বংশের লোক। খান সাতেক বাড়ি, বড়োবাজারে ঝাড়ন মশলার দোকান এবং সর্বোপরি একটি সাড়ে তিন মণ দেহের মালিক সে। সপ্তাহে একদিন সে গঙ্গার ঘটে আসতো ম্যাসাজ করবার জন্য। বারুণীর দিন গঙ্গায় চান করতে এসে বিষ্টু ধরের চর্বি-বহুল শরীরে মালিশের বহর দেখে ক্ষিতীশ বিদ্রুপ করেছিলেন। প্রথমে চোখের চাহনিতে, তারপর হাসিঠাট্টার মাধ্যমে তিনি বিষ্টুকে উত্তপ্ত করছিলেন। ক্ষিতীশ নিজে থেকেই তার প্রেসার, সুগার, কোলেস্টেরল লেবেল জানতে চান। তার দেহের স্থূলতা যে হার্টের পক্ষে ক্ষতিকর সেকথা বলেই পরক্ষণে ক্ষিতীশ তাকে হাতি এবং হিপোর সঙ্গে তুলনা করে বসেন। বিষ্টু বিরক্তি প্রকাশ করলেও মনে মনে ভয় পায় এবং ক্ষিতীশকে জিজ্ঞাসা করে, “আমি কি মরে যেতে পারি?”

ক্ষিতীশ তার থেকে বয়সে বড় হলেও শারীরিকভাবে অনেক বেশি সক্ষম। বিষ্টু ধরের মতো ক্ষিতীশের অর্থকৌলিন্য ছিলনা ঠিকই কিন্তু নিয়মিত শরীরচর্চা করে তিনি শরীরটাকে নিজের চাকর বানিয়ে ফেলেছিলেন। বিষ্টু ধর ক্ষিতীশের থেকে ঢের গুণ বড়লোক হলেও তার মতো দৌড়ঝাঁপ করার ক্ষমতা ছিল না। এইজন্য ক্ষিতীশ তাকে একথা বলেছিলেন।

7. “অবশেষে কোনি বাংলা সাঁতার দলে জায়গা পেল।”- কোনি কীভাবে বাংলা সাঁতার দলে জায়গা পেল তা সংক্ষেপে লেখাে। ৫ [মাধ্যমিক ২০১৮]

উত্তর : মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসে কোনির সাঁতার কাটার শুরু গঙ্গার জলে। সেখানেই ক্ষিতীশের চোখে পড়েছিল সে। ক্ষিতীশ কোনিকে যথাযোগ্য প্রশিক্ষণ দিয়ে একজন ভালো মানের সাঁতারু তৈরি করেছিল এবং শেষপর্যন্ত সে বাংলা সাঁতার দলে জায়গা পেয়েছিল। কিন্তু কোনির চলার পথ মোটেও মসৃণ ছিল না, তাকে বহু বাধা অতিক্রম করতে হয়েছিল।

কোনির সাঁতারু হওয়ার পথে মূলত দু’রকমের প্রতিবন্ধকতা ছিল। প্রথমটা তার ব্যক্তিগত এবং দ্বিতীয় কারণটা ছিল ক্ষিতীশ-কেন্দ্রিক। কোনি একজন বস্তির মেয়ে, তাই স্বাভাবিকভাবেই অন্যান্য সুইমার এবং ক্লাব-কর্মকর্তাদের অবজ্ঞার পাত্রী ছিল।তবে, কোনিকে বাংলার দলে না নেওয়ার মূল কারণ ছিল জুপিটার ক্লাবের ক্ষিতীশ-বিরোধী মনোভাব।

হিয়ার প্রশিক্ষক প্রণবেন্দু বিশ্বাসই প্রথম কোনিকে দলে নেওয়ার প্রস্তাব দেন। তিনি নির্বাচনী সভায় স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “কনকচাঁপা পালকে বাংলা দলে রাখতে হবে”। কোনি যে ক্লাবকর্তাদের দলাদলির শিকার, একথা তিনি জানতেন। কোনি হিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়া সত্বেও প্রণবেন্দু বাংলা দলে কোনিকে নিতে চেয়েছিলেন কারণ, তিনি জানতেন মহারাষ্ট্রের রমা যোশীর যোগ্য জবাব হবে কনকচাঁপা পাল। আসলে, কোনির যোগ্যতা সম্পর্কে প্রণবেন্দুর মনে বিন্দুমাত্র সংশয় ছিল না। বরং তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতেন যে, কোনি বাংলা দলে স্থান পেলে চ্যাম্পিয়নশিপ জেতার একটা সম্ভাবনা থাকবে। যাইহোক, ধীরেন ঘোষ, বদু চাটুজ্যেরা প্রণবেন্দুর প্রস্তাব মানতে অস্বীকার করলে তিনি বলেন যে, কোনিকে না নেওয়া হলে বালিগঞ্জ ক্লাবও ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপে কোনো সুইমার পাঠাবে না। এরফলে ক্ষিতীশ-বিরোধী গোষ্ঠী কার্যত মাথা নত করতে বাধ্য হয়।

এইভাবে নির্বাচনী সভায় তুমুল বাক-বিতণ্ডার পর শেষপর্যন্ত কোনিকে বাংলার দলে নেওয়া হয়েছিল।

8. “এটা বুকের মধ্যে পুষে রাখুক।” – কী পুষে রাখার কথা বলা হয়েছে? কী কারণে এই পুষে রাখা? ২+৩ [মাধ্যমিক ২০১৯]

উত্তর : উত্তরঃ মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র কোনি বয়সে ছোট হলেও বুঝতো গরিব বড়লোকের পার্থক্য। সে জানতো ধনীরা গরীবদের খারাপ চোখে দেখে, ঘৃণা করে। এটা তার সম্পূর্ণ নিজস্ব ভাবনা। কোনির মনেও ধনীদের প্রতি একটা বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই, হিয়ার প্রতিও কোনির যথেষ্ট রাগ ছিল। তাই যেদিন ক্ষিদ্দার সঙ্গে কোনি চিড়িয়াখানা ঘুরতে গিয়েছিল, হিয়া তাকে জল খেতে দিলে জলভর্তি গ্লাস কোনি ছুড়ে ফেলেছিল। কোনির এরূপ আচরণে ক্ষিদ্দা লজ্জিত হলেও তিনি মনে মনে খুশিই হয়েছিলেন। ক্ষিদ্দা চেয়েছিলেন হিয়ার প্রতি তার রাগটা কোনি বুকের মধ্যে পুষে রাখুক।

হিয়া ধনী পরিবারের মেয়ে এবং একজন প্রতিভাবান সাঁতারু। ক্ষিদ্দা জানতেন যে হিয়াই হল কোনির ভবিষ্যৎ প্রতিদ্বন্দ্বী। কোনিকে ক্ষিতীশ এইভাবে তৈরি করেছিলেন যে সে অনায়াসে বাংলার অন্য মেয়েদের টক্কর দিতে পারতো। কিন্তু কঠোর অধ্যবসায়ের সঙ্গে কোনির এই তেজটাও জরুরি ছিল। ক্ষিতীশ সিংহ একজন উঁচু মানের প্রশিক্ষক, তাই তিনি জানতেন যে হিয়ার প্রতি কোনির এই রাগটা পুষে রাখতে পারলে সাঁতারের সময় তার সুফল পাওয়া যাবেই। এইজন্য হিয়ার প্রতি রূঢ় আচরণ করলেও ক্ষিতীশ কোনিকে বকেন নি, বরং কোনির রাগটাকে আরো উসকে দিয়েছেন। মুখোমুখি লড়াইয়ে প্রতিপক্ষকে পর্যুদস্ত করার জন্য যে জেদটা থাকা প্রয়োজন, কোনির সেই জেদটা আরো বাড়িয়ে তোলার জন্য এই রাগটা পুষে রাখা প্রয়োজন ছিল।

9. দারিদ্র্য ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে কোনির জীবন সংগ্রাম আলোচনা করো।
অথবা
“ফাইট কোনি, ফাইট”- সাধারণ সাঁতারু থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়ে উঠতে গিয়ে কোনিকে কী ধরনের ‘ফাইট’ করতে হয়েছিল, নিজের ভাষায় লেখ। [মাধ্যমিক ২০২০]
অথবা
“পরিশ্রম আর ইচ্ছাশক্তির জোরে এক সাধারণ মেয়ের অসাধারণ হয়ে ওঠার কাহিনি হল কোনি” – গল্প অবলম্বনে আলোচনা করো।

উত্তর : সুসাহিত্যিক মতি নন্দী রচিত ‘কোনি’ উপন্যাস হল দারিদ্র্য বঞ্চনা আর ব্যর্থতার সোপান পেরিয়ে হতদরিদ্র কোনির সাফল্যের স্মারক।

যেই বারুণীতে পুণ্য পিপাসু মানুষ গঙ্গার জলে ঝাঁপ দেয় পাপমুক্তির জন্য — কোনি সেদিন গঙ্গার জলে ঝাঁপ দিয়েছিল তার দারিদ্র্যের অভিশাপের সঙ্গে লড়াই করার জন্য। অভাবী সংসারে সামান্য সাহায্যের বাসনায় সে, বন্ধুদের সঙ্গে চ্যালেঞ্জ করে কাঁচা আম সংগ্রহ করেছিল। বাজারে সামান্য পয়সায় বিক্রি করেছিল সেই আম। এভাবেই কোনি অভাবী শৈশবের অন্তরের মাটিতে লড়াইয়ের যে বীজ বপন করেছিল, অনেক ঝড় তুফান পেরিয়ে সেই বীজই হয়ে উঠেছিল সাফ্যলের সঞ্জীবনী বৃক্ষ।

দাদা কমলকে কোনি কথা দিয়েছিল, রবীন্দ্র সরোবরের সাঁতার প্রতিযোগিতায় সে চ্যাম্পিয়ন হবে। কিন্তু প্রশিক্ষণহীন কোনি কথা রাখতে পারেনি। সেই ব্যর্থতার আগুন তার অন্তরে দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে। ক্ষিতীশ সিংহের জহুরি দৃষ্টি কোনির সুপ্ত প্রতিভাকে চিনে নিতে ভুল করেনি। তাইতো তিনি কোনিকে সাঁতারে প্রশিক্ষিত করার দায়ভার নিজের কাঁধে তুলে নেন। পরাজিত কোনির ব্যর্থতা আর প্রতিহিংসার আগুনের পাখিটাকেই খাঁচায় বন্দি করে কোনিকে শেখান জীবনযুদ্ধে জয়ের মূলমন্ত্র—“ফাইট কোনি ফাইট”।

োনির জীবনের প্রতি বাঁকে, প্রতি পদে পদে জড়িয়ে আছে বঞ্চনা। আর এই পাহাড় প্রমাণ প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধেই ছিল কোনির আজন্ম ফাইট।

ক্ষিতীশ ভালোবাসার টানে জুপিটার সুইমিং ক্লাবে কোনিকে সাঁতার শেখানোর বাসনায় নিয়ে গেলেও মিথ্যা অজুহাতে সেখানে কোনিকে ভরতি নেওয়া হয় না। এমনকি জুপিজু টারের বার্ষিক প্রতিযোগিতায়ও কোনিকে অংশগ্রহণ পর্যন্ত করতে দেওয়া হয়নি। সবশেষে প্রণবেন্দু বিশ্বাস নিজের যুক্তিক্রম সাজিয়ে বাংলা দলে কোনিকে ঠাঁই দিয়েছিলেন। কিন্তু মাদ্রাজের জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতায় জুপিজু টারের চক্রান্তকারীরা কোনিকে প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ পর্যন্ত করতে দেননি। হোটেলে বহুবার নানা অপমানে জর্জরিত করা হয়েছে কোনিকে। তবুও কোনির লড়াকু মনোভাব স্তব্ধ হয়নি। ভাগ্যের অদ্ভূত পরিহাস অমিয়ার অসুস্থতার কারণে ৪×১০০ মিটার রিলেতে সুযোগ পায় কোনি। জীবনের এই চরম সন্ধিক্ষণে কোনি শুনতে পায় তার গুরুর কণ্ঠস্বর –“ফাইট কোনি ফাইট”। উজ্জীবিত কোনির আপ্রাণ লড়াইয়ে বাংলা চ্যাম্পিয়ন হয়। দরিদ্র বঞ্চনা ষড়যন্ত্রের চোরাস্রোত পেরিয়ে বিধাতার আশীর্বাদে কোনি গলায় পরে নেয় বিজয়মাল্য।

10. “খিদ্দা, এবার আমরা কী খাব?”- বক্তা কে?উদ্দিষ্ট ব্যক্তি কীভাবে তাদের সাহায্য করেছেন? ১+৪ [মাধ্যমিক ২০২০]

উত্তর : মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসে কোনি ক্ষিতীশকে একথা বলেছিল।

উদ্দিষ্ট ব্যক্তি অর্থাৎ কোনের সাঁতার-প্রশিক্ষক ক্ষিতীশ সিংহ শুধু একজন ভালো প্রশিক্ষক ছিলেন না, একজন বিরাট হৃদয়ের মানুষ ছিলেন। গঙ্গায় কোনির সাঁতার দেখে তিনি স্বেচ্ছায় তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা বলেছিলেন। শুধু তাই নয়, কোনির খাবারের ব্যবস্থাও তিনি করেছিলেন। তারপর হঠাৎ একদিন কোনিদের পরিবারে দুর্যোগের কালো মেঘ নেমে আসে- টিবি রোগে আক্রান্ত হয়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে যায় কোনির বড় দাদা কমল। সেই ছিল পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তার মৃত্যুতে কোনিদের পরিবার সর্বস্বান্ত হয়। এইরকম পরিস্থিতিতে কোনি ক্ষিতীশকে জিজ্ঞেস করেছিল “খিদ্দা, এবার আমরা কী খাব?”

ক্ষিতীশ এরপর নিজের সাধ্যের বাইরে গিয়ে কোনির পরিবারের অন্নসংস্থানের বন্দোবস্ত করেছিল। কোনির সঙ্গে সঙ্গে কোনির পরিবারকে বুক দিয়ে আগলেছিল কোনির প্রিয় ক্ষিদ্দা।

ক্ষিতীশ কোনির মাকে ছিট কাপড় কাটার কাজ দিয়েছিলেন। তিনি নিজে এসে ছিট কাপড় পৌঁছে দিয়ে যেতেন এবং সেগুলি কাটা হয়ে গেলে কোনির মাধ্যমে পাঠানো হতো। এর থেকে তাদের অল্প কিছু উপার্জন হত। তাছাড়া, কোনিকেও লীলাবতীর দোকানে চল্লিশ টাকা মাসমাইনের কাজ জোগাড় করে দিয়েছিলেন তিনি। এছাড়াও ক্ষিতীশ নানাভাবে কোনির পরিবারকে সাহায্য করতেন।

11. “খাওয়ায় আমার লােভ নেই। ডায়েটিং করি।”- বক্তা কে? তার ডায়েটিং-এর পরিচয় দাও। ১ + ৪ [মাধ্যমিক ২০২০]

উত্তর : সাংবাদিক-সাহিত্যিক মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসে বিষ্টুচরণ ধর একথা বলেছিল।

ভোজনরসিক বিষ্টু ধর একজন অত্যন্ত বনেদি বংশের লোক এবং অন্যান্য সম্পত্তির সঙ্গে সে একটি সাড়ে তিন মণ দেহের মালিক। তার এই স্থূলতার জন্য ঘরে বাইরে তাকে নিন্দাবাণে জর্জরিত হতে হয়। বারুণীর দিন গঙ্গার ঘাটে মালিশ করাতে এসেও তার রেহাই নেই। জনৈক চশমাধারী ছিপছিপে চেহারার প্রৌঢ় (ক্ষিতীশ) তাকে হিপো, হাতি ইত্যাদি আখ্যা দিয়ে দেন। এই প্রসঙ্গেই বিষ্টু ধর অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে জানায় যে সে রীতিমত ডায়েটিং করে। তার ডায়েটিং ছিল এইরকম –

সে রোজ তিনশো গ্রাম ক্ষীর খায়, আগে খেতো আধ কিলো; জলখাবারে খায় পনেরোটা লুচি, আগে খেতো কুড়িটা; আড়াইশো গ্রাম চালের ভাত এবং রাতে বারোখানা রুটি রয়েছে তার দৈনিক খাদ্যতালিকায়। এখন গরম ভাতের সঙ্গে মাত্র চার চামচ ঘি খায় সে, আগে অনেক বেশি খেতো। তার অন্যান্য আহারের মধ্যে রয়েছে বিকেলে দু-গ্লাস মিছরির শরবত আর চারটে কড়াপাক। তবে, মাছ বা মাংস সে ছুঁয়েও দেখে না কারণ বাড়িতে রাধাগোবিন্দ বিগ্রহ রয়েছে।

অন্যরা যে যাই বলুক, বিষ্টু ধরের মতে, সকাল থেকে রাত অবধি ব্যবসা সামলে এই আহার নিতান্তই অপর্যাপ্ত। দুঃখের সুরে সে বলে, “এত খাটুনির পর এইটুকু খাদ্য!”

12. ‘তোর আসল লজ্জাও জলে, আসল গর্বও জলে।’— কোনির কোন কথার পরিপ্রেক্ষিতে এ কথা বলে হয়েছে? তার আসল লজ্জা ও আসল গর্ব জলে বলার কারণ কী?

উত্তর : মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসে কোনির দাদা কমলের মৃত্যুর পর তাদের পরিবার যাতে ঠিকঠাক চলতে পারে সেজন্য ক্ষিতীশ সিংহ তার স্ত্রী লীলাবতীর দোকানে কোনির একটি কাজের ব্যবস্থা করে দেন। একদিন সেখানে অমিয়া এসেছিল ব্লাউজ করাতে। সে কোনিকে দেখে বলেছিল, ‘তুই এখানে ঝিয়ের কাজ করিস?” সেটা শুনে খুব লজ্জা পেয়েছিল কোনি। পরে সেকথা ক্ষিতীশ সিংহকে জানানোয় ক্ষিতীশ তাকে প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেন। ক্ষিতীশ কোনিকে তৈরি করছিলেন একজন সাঁতারু হিসাবে। যাতে কোনি সাঁতারে সবাইকে টপকে দেশ এবং বিশ্বে নিজের জায়গা তৈরি করতে পারে। কোনি দরিদ্র, সে লেখাপড়া জানে না তাই অমিয়া বেলা বা হিয়া মিত্রদের জবাব দেওয়ার মতো তার কাছে কিছুই নেই। তাই ক্ষিতীশ সিংহ কোনিকে বলেছিলেন তার আসল লজ্জা জলে, আসল গর্বও জলে। তার কারণ

অমিয়া, বেলা বা হিয়া মিত্র এরা কোনির প্রতিদ্বন্দী। কোনি যদি এদের কাছে হেরে যায় তাহলে সেটা তার লজ্জা। কিন্তু কোনি যদি সবাইকে পরাজিত করতে পারে তবেই কোনির আসল জিত, তার গর্ব। এই কথার মাধ্যমে কোনিকে সাঁতারকেই তার জীবনের কেন্দ্র বা আশ্রয় হিসাবে গ্রহণ করতে বলেছিলেন ক্ষিতীশ সিংহ।

13. “জাতীয় সাঁতারের আজ শেষ দিন” – শেষদিনের ঘটনাবলি নিজের ভাষায় লেখো।
অথবা
মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত জাতীয় সাঁতার চ্যাম্পিয়নশিপের শেষদিনের ঘটনাটি লেখো।
অথবা
“তুমি বেঙ্গলকে ভালোবাসো না?” — বক্তা কোন্পরিস্থিতিতে এই মন্তব্য করেছিলেন? উত্তরে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি কী জানিয়েছিল?
অথবা
“কোনি তুমি আনস্পোর্টিং” — কোনির উদ্দেশ্যে বক্তা কেন এ মন্তব্য করেছিল? এরপর কোনি কী করেছিল?
অথবা
“ছিলে-ছেঁড়া ধনুকের মতো কোনি উঠে দাঁড়ালো” – কোনির এমন আচরণের কারণ লেখো। এরপর কি হয়েছিল?
অথবা
“ফাইট কোনি, ফাইট” ক্ষিতীশের এই কথা মাদ্রাস জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে কোনিকে কীভাবে উদ্বুদ্ধ করেছিল তা লেখো।
অথবা
“একটা কালো প্যান্থার শিকার তাড়া করছে” — এমন মন্তব্যের কারণ কী? এরপর কী ঘটেছিল?
অথবা
“অভিনন্দন আর আদরে সে ডুবে যাচ্ছে” – কার কেন এমন পরিণতি হয়েছিল?

উত্তর: বিখ্যাত ক্রীড়াসাহিত্যিক মতি নন্দী রচিত ‘কোনি’ উপন্যাস থেকে প্রদত্ত অংশটি গৃহীত হয়েছে।

জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতার শেষদিনের ঘটনাক্রম ছিল নাটকের ক্লাইমেক্সের মতোই টানটান উত্তেজনাপূর্ণ। জুপিটারের স্বার্থা ন্বেষী কর্মকর্তা দের চক্রান্তে সমস্ত টুর্নামেন্টগুলোতে কোনিকে গ্যালারির দর্শক হয়ে বসে থাকতে হয়েছিল। কিন্তু প্রতিযোগিতার অন্তিম মুহূর্তে অমিয়া অসুস্থ হয়ে পড়লে, ‘ছাই ফেলতে ভাঙা কুলো-র মতো কোনি বাংলার শেষ ভরসা হয়ে ওঠে। অন্তিম প্রতিযোগিতা ৪×১০০ মিটার রিলেতে অসুস্থ অমিয়ার বদলে কোনিকে জলে নামানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

(১) কোনির অভিমান : নিজেকে প্রমাণ করার অপ্রত্যাশিত সুযোগ পেয়েও, অভিমানী কোনি প্রথমে “আমি নামব না” বলে ওঠে। কিন্তু হিয়া কোনিকে ‘আনস্পোর্টিং’ বলায় ত্মিমর্যাদা উদ্ধারের জন্য ‘ছিলে-ছেঁড়া ধনুকের মতো’ সে উঠে দাঁড়ায় এবং জলে নামতে হয়ে যায়।

(২) ক্ষিতীশের কণ্ঠস্বর শোনা : ৪ x ১০০ মিটার রিলে সাঁতারের স্টার্টিং ব্লকে কোনি যখন পা তুলতে যাবে, তখনই দৈববাণীর মতো সে শুনতে পায় ক্ষিদ্দার কণ্ঠস্বর—“ফাইট কোনি ফাইট”।

(৩) প্রতিযোগিতার সূচনা : রমা যোশীর তিন সেকেন্ড পরে কোনি জলে ঝাঁপিয়ে পড়ে। নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ পেয়ে কোনি মরিয়া হয়ে রমার পেছনে ‘কালো প্যান্থারের মতো’ ক্ষিপ্রবেগে ধেয়ে যায়।

(৪) প্রতিযোগিতার ফলাফল : ক্ষিদার আপ্তবাক্য স্মরণ করে ইঞ্চিতে ব্যবধান কমিয়ে এগিয়ে চলে কোনি। জীবনের সমস্ত যন্ত্রণা ও লাঞ্ছনার চোরাস্রোতকে পার করে সবার আগে স্পর্শ করে ফিনিশিং পয়েন্ট। এভাবেই নিজের নিষ্ঠা ও পরিশ্রমকে পাথেয় করে এগিয়ে চলা বস্তির মেয়ে কোনির গলায় উঠে আসে বিজয়মাল্য।

14. “একবার কখনো যদি জলে পাই”—কোন্প্রসঙ্গে এই মন্তব্য ? উক্তির মধ্যে দিয়ে বক্তার কোন্মানসিকতা প্রকাশ পেয়েছে?
অথবা
“গল্প লেখ কোনি, তুই মস্ত লেখক হবি” –কে, কেন কোনিকে এ কথা বলেছে? এরপর কী ঘটেছিল?
অথবা
“তোমার জন্য আজ চড় খেয়েছি, চোর বদনাম পেয়েছি”—কে, কার উদ্দেশ্যে কখন একথা বলেছে? এরপর বক্তা কী করেছে?

উত্তর: বিখ্যাত ক্রীড়াসাহিত্যিক মতি নন্দীর লেখা “কোনি” উপন্যাসের ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদের শেষ অংশ থেকে আলোচ্য অংশটি গৃহীত হয়েছে।

প্রসঙ্গ : হতদরিদ্র কোনি রাজ্য সাঁতার দলের সঙ্গে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে লড়তে মাদ্রাজে এসেছিল। একদিন বেলার অনুপস্থিতিতে ধনী কন্যা হিয়া বেলার ক্রম নিজে মাখে এবং মজার ছলে কোনিকেও মাখিয়ে দেয়। এরপর বেলা ফিরে এসে কোনির গালে ক্রিমের গন্ধ পেয়ে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের ন্যূনতম সুযোগটুকু না দিয়েই ক্রিম চোর সাব্যস্ত করে। কোনি সত্যি কথা জানালে, ক্রুদ্ধ বেলা তাকে চড় মারে আর জানায় —

“হিয়ার নামে অপবাদ দিচ্ছিস?….তোর মত দশটা মেয়েকে ও ঝি রাখতে পারে।….গপ্পো লেখ কোনি, তুই মন্ত্র লেখক হবি।”

এমন সময় হিয়া ফেরে। কোনিকে কোণঠাসা করতে অন্যান্য মেয়েরা কোনির বক্তব্যকে বিকৃত করে জানায় যে, কোনি হিয়াকে চোর বদনাম দিয়েছে। যদিও সব শুনে হিয়া অক্লেশে জানিয়ে দেয় যে কোনি সত্যি কথা বলছে। সে বেলাকে একটা নতুন ক্রিম কিনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। ঠিক সেই সময় লাঞ্ছিত কোনি ছুটে এসে হিয়ার গালে চড় মারে আর জানায় –

“তোমার জন্যেই আমি আজ চড় খেয়েছি, চোর বদনাম পেয়েছি।”
এরপর একটু থেমে দাঁতে দাঁত চেপে আপন মনেই কোনি স্বগতোক্তিটি করে।

উক্তির আলোকে কোনির মানসিকতার পরিচয় : কোনি বস্তির হতদরিদ্র এক পরিবার থেকে উঠে আসা পিতৃহীনা মেয়ে। অর্থ, প্রতিপত্তি, পুঁথিগত শিক্ষা কিংবা চেহারার গ্ল্যামার কোনো কিছুই তার নেই। থাকার মধ্যে শুধুমাত্র রয়েছে তার অদম্য আত্মবিশ্বাস, প্রবল জেদ আর দুর্লভ প্রতিভা। লড়াকু কোনি তাই নিজের প্রতিভা বলে হিয়াকে উপযুক্ত জবাব দিতে চায়। এজন্যেই জলে অর্থা ৎ সাঁতারের হিয়াকে হারিয়ে লাঞ্ছনার প্রতিশোধ নিতে সে দৃঢ়দৃ প্রতিজ্ঞ।

15. ক্ষিতীশের বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ উঠেছিল? ক্ষিতীশ কী জবাব দিয়েছিলেন?
অথবা
‘ওর বিরুদ্ধে যা যা অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো তাহলে বলুন’অভিযোগগুলি কী কী? অভিযুক্ত ব্যক্তি কী জবাব দিয়েছিলেন?
অথবা
‘আমার বিরুদ্ধে চার্জগুলো স্পষ্ট করে চিঠিতে বলা নেই’ — বক্তার বিরুদ্ধে কী কী চার্জ অভিযোগ উঠেছিল? বক্তা তার কী জবাব দিয়েছিলেন?
অথবা
‘আমার বিরুদ্ধে আর কী অভিযোগ আছে ধীরেন?’—বক্তা কে? তার বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছিল? তিনি কী জবাব দিয়েছিলেন?

উত্তর: প্রথিতযশা সাহিত্যিক মতি নন্দী রচিত ‘কোনি’ উপন্যাসের অতি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হল ক্ষিতীশ সিংহ। তিনি জুপিটার সুইমিং ক্লাবের চিফ ট্রেনার। কিন্তু ক্লাবেরই কয়েকজন ষড়যন্ত্রকারীর ইন্ধনে সাঁতারুরা ক্ষিতীশের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উত্থাপন করে।

ক্ষিতীশের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলি হল ➺

  1. শ্যামলের অভিযোগ : ক্ষিতীশ জুনিয়র ছেলেদের সামনে সিনিয়র সাঁতারু শ্যামলের সঙ্গে আমেরিকার ১২ বছরের মেয়ের সাঁতার দক্ষতার সময়ের তুলনা করে, শ্যামলকে অপমান করেছেন।
  2. গোবিন্দের অভিযোগ : বেঙ্গল রেকর্ড হোল্ডার গোবিন্দকে ক্ষিতীশ কান ধরে ক্লাব থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।
  3. সুহাসের অভিযোগ : সুহাস ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হয়ে দিন দশেক ট্রেনিংয়ে উপস্থিত না হতে পারার জন্য, ক্ষিতীশ তার বাবাকে অকথ্য ভাষায় অপমান করেছেন।
  4. অমিয়া ও বেলার ক্ষোভ : অমিয়া ও বেলাকে ক্ষিতীশ পুরুষদের মতো বারবেল নিয়ে ব্যায়াম করতে এবং পুরুষদের মতো চুল কাটতে জোর করায়, ক্ষিতীশের অনুশাসনে অতিষ্ঠ হয়ে তারা জুপিজু টার ছেড়ে অ্যাপেলো ক্লাবে চলে গিয়েছিল।
  5. ক্লাব সদস্যদের সম্মিলিত অভিযোগ : ক্লাবের অন্যান্য সদস্যরা একযোগে জানান যে,

(1) মেডেল জয়ের কোনো গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস যেমন ক্ষিতীশের নেই, ঠিক তেমনি সাঁতারুদের মন ও মেজাজ বোঝার ক্ষমতাও নেই।
(2) ক্ষিতীশের এই সব ক্রিয়াকাণ্ডের জন্য জুপিজু টার ক্লাবের সুনাম এবং গৌরব কালিমালিপ্ত হচ্ছে। ক্ষিতিশের জবাব ফ্যাশনেবল কয়েকটি মেডেল পাওয়ার জন্য সাঁতারুদের পদলেহন করে নিজের পদ বাঁচিয়ে রাখার পক্ষপাতী ছিলেন না ক্ষিতীশ। তাই তিনি দৃঢ়কণ্ঠে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সকল অভিযোগের জবাব দেন। তিনি বলেন –

(ক) অভিযোগকারী সাঁতারুরা আসলে ফাঁকিবাজ, উৎশৃঙ্খল এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষাহীন। সাঁতার তাদের অনেক কিছু দিলেও, সাঁতারকে তারা কিছুই দেয়নি।
(খ) শ্যামল-গোবিন্দের বয়সের সঙ্গে সঙ্গে মনের পচন ঘটেছে, সাঁতার জগতে তারা অচল আধুলি।

16. হঠাৎ তার চোখে ভেসে উঠলো ‘৭০’ সংখ্যাটি’-‘৭০’ সংখ্যাটির তাৎপর্য কী? তা কখন উদ্দিষ্ট ব্যক্তির চোখে ভেসে উঠেছিল?
অথবা
‘৭০’ লিখে ক্লাবের বারান্দায় দেয়ালে সেটে দিলেন –৭০ সংখ্যাটি কে, কেন দেওয়ালে টাঙিয়ে ছিলেন?

উত্তর: প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক মতি নন্দী রচিত ‘কোনি’ উপন্যাস থেকে প্রদত্ত অংশটি গৃহীত হয়েছে।

প্রসঙ্গ : ক্ষিতীশ একদিন খবরের কাগজে দেখেন যে, মহারাষ্ট্রের স্বনামধন্য সাঁতারু রমা যোশী স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে ১০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে এক মিনিট ১২ সেকেন্ড সময়ে নিজের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে প্রথম হয়েছে। রমার এই সাফল্যটাকেই ক্ষিতীশ কোনির সামনে দৃষ্টা দৃ ন্ত হিসেবে রাখতে চেয়েছিলেন। যেহেতু রমা তার লক্ষ্যমাত্রা ৭২ সেকেন্ড পার করেছিল, তাই ক্ষিতীশ বড়ো করে ৭০ সংখ্যাটি লিখে ক্লাবের দেওয়ালে টাঙিয়ে দিয়েছিলেন। সংখ্যাটি ছিল সময়ের মাপকাঠিতে রমা যোশীকে হারানোর প্রতীক। ক্ষিতীশ জানতেন একটা কঠিন চ্যালেঞ্জ সামনে থাকলে, কোনি নিজের প্রচেষ্টাকে বাড়িয়ে লক্ষ্যকে সহজেই অতিক্রম করতে পারবে।

৭০ সংখ্যাটি ভেসে ওঠার কারণ : মাদ্রাজে এসে রমা যোশীকে দেখার পর কোনির চোখে নিজের স্বপ্ন ও প্রত্যাশার প্রতীকস্বরূপ ‘৭০’ সংখ্যাটি ভেসে উঠেছিল।

17. কোনি চরিত্রটি আলোচনা করো। ২+৩

উত্তর প্রাক্কথন : বাংলা কথাসাহিত্যের স্বনামধন্য লেখক মতি নন্দী রচিত ‘কোনি’ উপন্যাসটি এক হতদরিদ্র মেয়ের সাফল্যের জগতে উত্তরণের ইতিবৃত্ত।

চরিত্র বিশ্লেষণ : উপন্যাসের প্রধান চরিত্র শ্যামপুকুর বস্তিবাসী কনকচাঁপা পাল বা কোনিকে কেন্দ্র করেই গোটা উপন্যাসটি আবর্তিত হয়েছে। উপন্যাসে যে সমস্ত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলির জন্য কোনি চরিত্রটি অনন্যতা লাভ করেছে, সেগুলি হল —

  1. সংগ্রামী : কঠোর জীবন সংগ্রামই ছিল কোনির জীবনের নিষ্ঠুর ভবিতব্য। তাইতোহাজারো ষড়যন্ত্রের চক্রব্যূহ ভেদ করে সে জীবনে ও জলে—সর্বত্রই লড়েছে এবং জিতেছে।
  2. একাগ্র এবং জেদি : জয়ের মূলমন্ত্র হল একাগ্রতা আর অদম্য জেদ। দুটো দু ই কোনির চরিত্রে বিদ্যমান। গোটা উপন্যাসেই আমরা কোনির একাগ্রতা এবং জেদের পরিচয় একাধিকবার দেখতে পেয়েছি।
  3. খেলোয়াড় সুলভ : কোনির ভিতর সুপ্ত থাকা স্পোর্টিং মাইন্ডকে ক্ষিতীশের জহুরি চোখ চিনে নিতে পেরেছিল। তাই তো দর্শকদের আসনে বসে থাকা কোনি শেষ পর্যন্ত বিজয়িনীর মঞ্চে পৌঁছোতে পেরেছিল।
  4. আত্মমর্যাদাবোধ : কোনির আত্মমর্যাদাবোধ ছিল প্রবল। তাই সে অহংকারী হিয়ার দেওয়া চকলেটের টুকরো না খেয়ে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল।
  5. পরিবারের প্রতি দায়বদ্ধতা : হতদরিদ্র কোনি কিশোর বয়স থেকেই সংসারের পাশে থেকেছে। নিজের টিফিনের টাকা, ‘প্রজাপতি’তে কাজ করে উপার্জিত মাসিক ৪০ টাকা, সমস্তটাই সে সংসারে দিয়ে দিত। সংসারের প্রতি তার দায়িত্ববোধ ছিল প্রবল।
  6. অভিমানী : আর পাঁচটা সাধারণ মেয়ের মতন কোনির হৃদয়েও অভিমান ছিল। উপন্যাসের শেষ অংশে ক্ষিতিশের প্রতি তার অভিমানের বহিঃপ্রকাশ আমরা দেখতে পাই।
  7. পরিশ্রমী ও কষ্ট সহিষ্ণু : কঠোর পরিশ্রমের মধ্যে দিয়েই কোনি দরিদ্র জীবন যন্ত্রণা ও অভুক্ত পেটের যন্ত্রণাকে অতিক্রম করেছিল। তার এই পরিশ্রম ও কষ্টসহিষ্ণুতাই তার মাথায় বিজয়ীর মুকুট তুলে দিয়েছিল।

শেষ কথা : পরিশেষে বলা যায় যে, কোনি শুধুমাত্র উপন্যাসের একটি চরিত্র নয়। কোনি হল বাংলার কুঁড়েঘরে লুকিয়ে থাকা হাজার হাজার আত্মপ্রত্যয়ী, জেদি ও লড়াকু মেয়েদের প্রতিচ্ছবি।

18. ‘কোনি’ উপন্যাসে লীলাবতী চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো।

উত্তর : মতি নন্দীর ‘কোনি’ উপন্যাসে অপ্রধান চরিত্র গুলির মধ্যে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে ক্ষিতীশ সিংহের স্ত্রী লীলাবতীর চরিত্রটি। আকারে তিনি ছোট্টোখাট্টো, গৌরবর্ণ এবং গম্ভীর। জানা যায় বিড়াল পোষা এবং একটু বেশি জল খরচ করা লীলাবতীর শখ। তবে এই চরিত্রটি ব্যক্তিত্বময়ী। ক্ষিতীশ সিংহ খেলা পাগল মানুষ, তিনি সংসারের দায়-দায়িত্ব সেভাবে নেন না। তাই তাদের সংসারের যাবতীয় দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন লীলাবতী নিজে। ক্ষিতীশ সিংহের হাতে পড়ে ধুঁকতে থাকা টেলারিংয়ের দোকানটিকে তিনি নিজের মতো করে সাজিয়ে নিয়েছেন এবং উপন্যাসের আমরা দেখি হাতিবাগানে তিনি নতুন একটি দোকান নিয়েছেন। যারমধ্যেদিয়েলীলাবতীচরিত্রটির দায়িত্বশীলতা, তার দৃঢ় ব্যক্তিত্ব উঠে আসে। তাকে হিসাব করে সংসার চালাতে হয় বলেই প্রথমে কোনির দায়িত্ব নিতে তিনি রাজি হননি। কিন্তু লীলাবতী স্বামীকে অকৃত্রিম ভালোবাসেন তাই শেষ পর্যন্ত কোনিকে আপন করে নেন এবং কোনি যখন খেলায় জেতে, লীলাবতী অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে ওঠেন। উপন্যাসে আমরা দেখি ক্ষিতীশ সিংহ নিজে শরীর সচেতন। তিনি সিদ্ধ খান বলে তা হাসিমুখে মেনে নেন লীলাবতী। অর্থাৎ একদিকে ব্যক্তিত্বময়ী লীলাবতী যেমন সংসারের হাল ধরেন, অন্যদিকে তিনি হয়ে ওঠেন যোগ্য সহধর্মিনী ও কোনির প্রতি মমতাময়ী। এই সবকিছুর মিশালে অত্যন্ত স্বল্প পরিসরে এই চরিত্রটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে এই উপন্যাসে।

19. বেঙ্গল স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে কোনিকে কীভাবে চক্রান্ত করে হারানো হয়েছিল তা লেখো।
অথবা
‘এভাবে মেডেল জেতার কোনো আনন্দ নেই’ — এভাবে বলতে কোন্ভাবে? বক্তার এই উক্তির কারণ কী?
অথবা
‘তারপর আরেকটি ব্যাপার ঘটল’ — কী ব্যাপার ঘটেছিল তা আলোচনা করো।
অথবা
বঞ্চনার বিরুদ্ধে কোনির জীবনসংগ্রাম আলোচনা করো।

উত্তর : সাঁতারু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে গিয়ে কোনিকে জীবনে বহুবার ষড়যন্ত্রের চোরাস্রোতকে অতিক্রম করতে হয়েছিল। একদিকে ‘দারিদ্র্যতা’ অন্যদিকে প্রশিক্ষক ক্ষিতীশের বিরুদ্ধে কিছু ‘স্বার্থা ন্বেষীর প্রতিহিংসা’— এই দুটিদু কারণে কোনিকে বারবার নানা কদর্যচক্রান্তের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। বেঙ্গল স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে চক্রান্তের চক্রব্যূহ যেভাবে কোনিকে আবদ্ধ করেছিল, তা নীচে তুলে ধরা হল —

(ক) ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোক ইভেন্ট : ১০০মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে জুপিজু টার ক্লাবের দু চাটুজ্জে কিপার হিসেবে ছিলেন। তিনি প্রতিহিংসাপরায়ণ হলে লাল ফ্ল্যাগ তুলে দিয়ে কোনিকে ডিসকোয়ালিফাই করেন।
(খ) ২০০ মিটার ফ্রিস্টাইল ইভেন্ট : এই ইভেন্টে কোনি সবার আগে বোর্ড ছুঁলেও, জুপিজু টার ক্লাবের কর্মকর্তা রা দ্বিতীয় স্থানে থাকা অমিয়াকেই প্রথম ঘোষণা করেছিলেন।
(গ) ২০০ মিটার মেডলি ইভেন্ট : কোনি এই ইভেন্টে হিয়া ও অমিয়ার থেকে প্রথমদিকে খানিকটা পিছিয়ে থাকলেও, ব্যাক স্ট্রোকে সে অমিয়াকে ধরে ফেলে। অমিয়াকে অতিক্রম করে কোনি টার্ননিতেই জুপিটার ক্লাবের যজ্ঞেশ্বর ভট্টাচার্য লাল ফ্ল্যাগ তুলে কোনিকে ডিসকোয়ালিফাই ঘোষণা করেন।
(ঘ) ১০০ মিটার ফ্রি স্টাইল ইভেন্ট : নিয়ম অনুযায়ী সেরা প্রতিযোগিদের মাঝখানে না রেখে, এই ইভেন্টে সুকৌশলে কোনির পাশের লেনে ইলাকে রাখা হয়। ফলে, কোর্নিসবার আগে ৫০ মিটারের বোর্ড ছুঁলেও, ইলা লেন ভেঙে ঢুকে কোনিকে আঘাত করে বসে। এতে সময় হারিয়ে আহত কোনি পিছিয়ে পড়ে এবং রক্তাক্ত অবস্থায় যুগ্মভাবে তৃতীয় স্থান লাভ করে।

এভাবেই জুপিটার সুইমিং ক্লাবের স্বার্থান্বেষী কর্মকর্তারা বেঙ্গল স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের নাক কেটে কোনির যাত্রাভঙ্গ করেছিলেন।

20. ‘প্রণবেন্দু বিশ্বাস চরিত্রটি আলোচনা করো।’
অথবা
কোনির জীবনে প্রণবেন্দুর অবদান।
অথবা
‘শোনা মাত্র প্রণবেন্দু দপ করে উঠেছিল’ – প্রণবেন্দুর পরিচয় দাও। কেন সে জ্বলে উঠেছিল? এই জ্বলে ওঠার মধ্যে দিয়ে তাঁর কোন মানসিকতার পরিচয় পাওয়া যায়?

উত্তর : প্রথিতযশা সাহিত্যিক মতি নন্দী রচিত ‘কোনি’ উপন্যাসে বালিগঞ্জ সুইমিং ক্লাবের ট্রেনার প্রণবেন্দু বিশ্বাস একটি পার্শ্বচরিত্র হওয়া সত্ত্বেও চরিত্রের অনন্যতায় উপন্যাসের একটি উজ্জ্বল স্থান দখল করে নিয়েছেন। প্রণবেন্দু বিশ্বাস চরিত্রটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে –

  1. অভিজ্ঞ ও বিচক্ষণ প্রশিক্ষক :প্রণবেন্দু বিশ্বাস নিজের নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের দ্বারা হিয়া মিত্রকে ভারত সেরা সাঁতারুতে পরিণত করেছিলেন। শুধুতাই নয় প্রশিক্ষক হিসেবেও তিনি ছিলেন যথেষ্ট বিচক্ষণ। সে কারণেই তাঁর জহুরিদৃষ্টি কোনির সুপ্ত প্রতিভাকে চিনে নিতে পেরেছিল।
  2. যুক্তিবাদী এবং প্রতিবাদী :বিএএসএ নির্বাচন সভার জুপিটারের কর্মকর্তা রা যখন ষড়যন্ত্রের জাল বিছিয়ে কোনিকে বাদ দিতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই প্রতিবাদী প্রণবেন্দু দপ করে জ্বলে উঠে গোটা ঘটনার প্রতিবাদ জানান এবং নিজের মতের স্বপক্ষে যুক্তিক্রম পেশ করে।
  3. সৎ ও নিরপেক্ষ :মানুষ হিসেবে প্রণবেন্দু ছিলেন অত্যন্ত সৎ প্রকৃতির। তার নিরপেক্ষ মানসিকতার দৌলতে কোনি মাদ্রাজ জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিল।
  4. বঙ্গপ্রেমী মানুষ :প্রণবেন্দু বাংলাকে ভালোবাসতেন। ব্যক্তিস্বার্থ অপেক্ষা বাংলার স্বার্থই ছিল তার কাছে বড়ো। তাই তিনি বাংলার সাঁতারুদের চ্যাম্পিয়ন করার স্বার্থে সমস্ত বাধাকে অতিক্রম করে কোনিকে মাদ্রাজ জাতীয় চ্যাম্পিয়ন শিপে পাঠানোর পক্ষে জোরালো সওয়াল করে দৃঢ় কণ্ঠে বলেছিলেন –

(ক) ‘বেঙ্গলের স্বার্থেই কনকচাঁপা পালকে টিমে রাখতে হবে’
(খ) ‘রমা যোশির সোনা কুড়ানো বন্ধ করা ছাড়া আমার কোনো স্বার্থ নেই’। ক্রীড়া জগতের স্বার্থা ন্বেষীদের ভিড়ে প্রণবেন্দু বিশ্বাস সত্যিই এক ব্যতিক্রমী চরিত্র। এককথায় তিনি এক নিরপেক্ষ নির্ভীক এবং আদর্শ প্রশিক্ষক।

21. “আজ বারুণী। গঙ্গায় আজ কাঁচা আমের ছড়াছড়ি”— বারুণী কী? বারুণীর দিনে গঙ্গা ঘাটের পরিচয় দাও।
অথবা
“ঘাটে থই থই ভিড়” — ভিড়ের কারণ কী? ঘাটের বর্ণনা দাও।
অথবা
“আজ গঙ্গায় ভাটা” — আজ বলতে কোন্দিনকে বোঝানো হয়েছে? সেই দিনের গঙ্গা ঘাটের বর্ণনা দাও।

উত্তর : বারুণীর পরিচয় : শতভিষা নক্ষত্রযুক্ত চৈত্রমাসের কৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে সংগঠিত পুণ্যস্নানই হল বারুণী।

গঙ্গা ঘাটের বর্ণনা : প্রথিতযশা সাহিত্যিক মতি নন্দী রচিত ‘কোনি’ উপন্যাসে দেখা যায় বারুণী তিথিতে পুণ্যলাভের প্রত্যাশায় অনেক মানুষ গঙ্গায় স্নান করতে এসেছেন। মনস্কামনা পূরণের আকাঙ্ক্ষায় তারা নদীবক্ষে কাঁচা আম অঞ্জলি দিচ্ছেন। একারণেই গঙ্গাঘাট সেদিন যেন ভিড়ে থৈ থৈ। তা ছাড়া

(ক) আম কুড়ানোর হিড়িক : পুণ্যার্থীদের ফেলে যাওয়া আম একদল ছেলেমেয়ে মহাউৎসাহের সঙ্গে সংগ্রহ করছিল। আম ভেসে আসতে দেখলেই তাদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যাচ্ছিল।
(খ) পারিপার্শিক দৃশ্য : স্নান শেষে বিরক্ত মুখে কাদা মাড়িয়ে পুণ্যার্থীরা ঘাটের মাথায় বসে থাকা বামুনদের কাছে যাচ্ছিল। ওই বামুনেরা স্নানের আগে পয়সার বিনিময়ে সকলের জামা-কাপড় জমা রাখে, স্নানের জন্য তেল দেয় এবং স্নান করে ফিরে এলে পুণ্যার্থীদের কপালে চন্দনের ছাপ এঁকে দেয়।
(গ) ভিখারিদের উপস্থিতি : ঘাট পার্শ্ববর্তী রাস্তার দুইদু পাশ দিয়ে বসে থাকা ভিখারিদের অনেকে উপেক্ষা করছিল, অনেকে আবার ভিক্ষাও দান করছিল।
(ঘ) দেবদেবীর দুয়ারের উপস্থিতি : পথের দুধারে অবস্থিত নানা দেবদেবীর দুয়ারের শিবলিঙ্গে অনেকে জল ঢালছিলেন।
(ঙ) বিবিধ দোকানের সমাহার : ঘাটের পাশেই মেলার আবহে গড়ে ওঠা কাঠ, প্লাস্টিক, লাহা, খেলনা, সাংসারিক দ্রব্যসহ বিবিধ দোকান বসেছে। দোকানগুলোর দিকে কৌতুহলী দৃষ্টিদৃ তে তাকাতে তাকাতে অধিকাংশ মানুষই বাড়ির দিকে ফিরে যাচ্ছিল।

—এভাবেই লেখকের দক্ষ কলমের আঁচড়ে বারুণীর দিনের গঙ্গাঘাটের বৈচিত্র্যময় ছবি পাঠকের সামনে জীবন্ত হয়ে উঠেছে।

22. ‘এরপর কোনির ট্রেনিং আরো কঠিন করে তুলল’–এরপর বলতে কীসের পর? কীভাবে কোনির ট্রেনিং আরো কঠিন হয়েছিল?

প্রসঙ্গ : ক্ষিতীশ একদিন খবরের কাগজে দেখেন যে, মহারাষ্ট্রের স্বনামধন্য সাঁতারু রমা যোশী স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে ১০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে এক মিনিট ১২ সেকেন্ড সময়ে নিজের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে প্রথম হয়েছে। রমার এই সাফল্যটাকেই ক্ষিতীশ কোনির সামনে দৃষ্টান্ত হিসেবে রাখতে চেয়েছিলেন। যেহেতু রমা তার লক্ষ্যমাত্রা ৭২ সেকেন্ড পার করেছিল, তাই ক্ষিতীশ বড়ো করে ৭০ সংখ্যাটি লিখে ক্লাবের দেওয়ালে টাঙিয়ে দিয়েছিলেন। সংখ্যাটি ছিল সময়ের মাপকাঠিতে রমা যোশীকে হারানোর প্রতীক। ক্ষিতীশ জানতেন একটা কঠিন চ্যালেঞ্জ সামনে থাকলে, কোনি নিজের প্রচেষ্টাকে বাড়িয়ে লক্ষ্যকে সহজেই অতিক্রম করতে পারবে। রমা যোশীর সাফল্যের খবর জানার পর থেকে ক্ষিতীশ কোনির টাইমিং আরো উন্নত করতে সচেষ্ট হন। সেইজন্যই তিনি কোনির অনুশীলনকে আরও কঠিন করে তোলেন। যথা —

(ক) শীতকাল এসে গেলে ক্ষিতীশ কোনির ট্রেনিং বন্ধ করেন না।
(খ) কোনিকে দুবেদু লা জলে নামান এবং চার রকমের স্ট্রোক মিলিয়ে দিনে দুমাইল হাড়ভাঙা সাঁতার কাটান।
(গ) পা বাঁধা অবস্থায় শুধুমাত্র হাতের সাহায্যে পুল করানো শুরু করেন।
(ঘ) প্রতি মাসে রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়িয়ে পরিশ্রমের মাত্রা বাড়ান।

23. ‘টেবলের মুখগুলি উজ্জ্বল হয়ে উঠল’— কেন এমন ঘটেছিল?

উত্তর (ক) শ্যামলের অভিযোগ : ক্ষিতীশ জুনিয়র ছেলেদের সামনে সিনিয়র সাঁতারু শ্যামলের সঙ্গে আমেরিকার ১২ বছরের মেয়ের সাঁতার দক্ষতার সময়ের তুলনা করে, শ্যামলকে অপমান করেছেন।
(খ) গোবিন্দের অভিযোগ : বেঙ্গল রেকর্ড হোল্ডার গোবিন্দকে ক্ষিতীশ কান ধরে ক্লাব থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন।
(গ) সুহাসের অভিযোগ : সুহাস ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হয়ে দিন দশেক ট্রেনিংয়ে উপস্থিত না হতে পারার জন্য, ক্ষিতীশ তার বাবাকে অকথ্য ভাষায় অপমান করেছেন।
(ঘ) অমিয়া ও বেলার ক্ষোভ : অমিয়া ও বেলাকে ক্ষিতীশ পুরুষদের মতো বারবেল নিয়ে ব্যায়াম করতে এবং পুরুষদের মতো চুল কাটতে জোর করায়, ক্ষিতীশের অনুশাসনে অতিষ্ঠ হয়ে তারা জুপিজু টার ছেড়ে অ্যাপেলো ক্লাবে চলে গিয়েছিল।
(ঙ) ক্লাব সদস্যদের সম্মিলিত অভিযোগ : ক্লাবের অন্যান্য সদস্যরা একযোগে জানান যে,

(i) মেডেল জয়ের কোনো গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস যেমন ক্ষিতীশের নেই, ঠিক তেমনি সাঁতারুদের মন ও মেজাজ বোঝার ক্ষমতাও নেই।
(ii) ক্ষিতীশের এই সব ক্রিয়াকাণ্ডের জন্য জুপিজু টার ক্লাবের সুনাম এবং গৌরব কালিমালিপ্ত হচ্ছে। অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য মিটিং-এর সভাপতি ধীরেন ঘোষ বলেন, অভিযোগকারী সাঁতারুরা বাইরে আছে, তাদের ডেকে এনে প্রকাশ্যে অভিযোগগুলি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হোক। ক্ষিতীশ জানান — ছেলেদের ডাকার দরকার নেই, তাদের অভিযোগগুলি সত্য। ক্ষিতীশের এই স্বীকারোক্তিই চিফ-ট্রেনার পদ থেকে তার অপসারণের পথ প্রশস্ত করে দেয়। এতেই ষড়যন্ত্রকারীদের মুখগুলো আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।

× close ad